“অভিযোগের বাস্তবিকতা না থাকলে সন্দেহের অবকাশ থাকে” গৌরশঙ্করের পদত্যাগ ইস্যুতে দলীয় শৃঙ্খলা সর্বোপরি মনে করালেন সুকান্ত

আমাদের ভারত, ১৭ এপ্রিল: দল পরিচালনা নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের উদ্দ্যেশ্যে অভিযোগ করে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন একের পর এক শীর্ষস্থানীয় নেতা। রবিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে একগুচ্ছ অভিযোগ জানিয়ে রাজ্য সম্পাদকের পদ ছেড়েছেন গৌরীশংকর ঘোষ। একই পথ ধরেছেন রাজ্য কর্মসমিতির আরো দুই সদস্য। এরপরই দলের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গেছে বিজেপি নেতা অনুপম হাজরাকে। স্বাভাবিক ভাবেই এই সমস্ত ঘটনায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যের পদ্ম নেতৃত্বকে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের স্পষ্ট বক্তব্য, দলীয় শৃঙ্খলা সবার আগে আর তা মেনেই সকলকে চলতে হবে।

সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, পদত্যাগপত্রে যে অভিযোগ করা হয়েছে দলের বিরুদ্ধে তার যদি কোন বাস্তবিকতা না থাকে তাহলে তার বক্তব্যের সারবত্তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাবে। তার কথায়, “আমরা চিন্তাভাবনা করছি পদত্যাগপত্র নিয়ে কি করা যায়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব”। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কি কিছু জানতে চেয়েছেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এখনো ওনারা কিছু জানতে চাননি। জানতে চাইলে জানানো হবে।”

যদিও যারা পদত্যাগ করেছেন তারা সকলেই বলেছেন তারা দলের নির্দিষ্ট করে দেওয়া পদ ছাড়ছেন কিন্তু কোনোভাবেই বিজেপি ছাড়ছেন না। ফলে প্রশ্ন‌ উঠেছে, সভাপতি বা দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দল পরিচালনার ব্যর্থতাকে তারা দুষছেন? রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাওয়া এই প্রশ্নের পাল্টা হিসেবে সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন,”বিজেপিতে এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। কিন্তু বিজেপি সাংগঠনিক দল। একটি সাংগঠনিক দলের যে রীতিনীতি রয়েছে সেই রীতি মেনে চলতে হবে। দলের নিয়ম সকলের আগে। কারোর কোন সমস্যা থাকতেই পারে সে সমস্যা নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে জানালেন। তাতে কেউ সন্তুষ্ট নাও হতে পারেন। তারপর রাজ্যের অবজার্ভার বা ইনচার্জকে সমস্যার কথা জানানো যেতে পারে। প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে। সেখানে জানিয়ে আপনি সন্তুষ্ট নাও হতে পারেন। এরপর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা মহাশয়কে জানানো যায়। কিন্তু যে অভিযোগ অনেকেই পদত্যাগ করছেন সে অভিযোগগুলির যদি কোনও বাস্তবিকতা না থাকে তাহলে তার সন্দেহের অবকাশ থাকবে।”

গৌরী শঙ্কর ঘোষের পদ ছাড়া প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন,”যতদূর আমি তার বক্তব্য শুনেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে তিনি সম্ভবত মন্ডল সভাপতিকে নিয়ে তার উষ্মা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু মন্ডল সভাপতি ঘোষণা হওয়ার আগে উনি কী করে জানলেন, যে ওনার কথামতো তা হচ্ছে না? তাই স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে প্রশ্ন জাগছে উনি কোথা থেকে এটা জানছেন? এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *