সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২০ জুন: বারাসাতের ব্যস্ত বিধান মার্কেটের আবর্জনাময় পুকুর নাভিশ্বাস তুলছে এলাকাবাসীর। চরম দুর্গন্ধর পাশাপাশি ওই পুকুর মশা ও মাছির আতুরঘরে পরিণত হওয়ায় আতঙ্কিত এলাকাবাসিন্দারা।
প্রশাসনের সর্বস্তরে এলাকাবাসীরা বহুবার আবেদন করলেও পুকুরটি পূর্ণ সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। চলতি সপ্তাহে ওই পুকুর থেকে সামান্য ময়লা তোলা হয়। যদিও স্থানীয়দের দাবি, এই ভাবে লসংস্কার করলে বাস্তবে কোনও লাভ নেই। পুরসভার তরফে দ্রুত পুকুর সংস্কার ও সৌন্দর্যয়নের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বারাসাত শহরের ১৬ নাম্বার ওয়ার্ডের বিধানপার্ক অন্যতম ব্যাস্ত এলাকা। এই এলাকায় ছোটো বড় মিলিয়ে দেড়শোর বেশি দোকান রয়েছে। এই ওয়ার্ড ছাড়াও ১৫, ১৬, ১৭, ২৪ নাম্বার ওয়ার্ডের মানুষ এই বাজারেই আসেন। বাজার লাগোয়া এলাকায় প্রচুর ফ্ল্যাট ও বসতবাড়ি রয়েছে। জনবহুল এই বাজার লাগোয়া পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে আস্তাকুঁড়ে পরিণত হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দারা রাতের অন্ধকারে ওই পুকুরে নোংরা মৃত জন্তু ফেলে বলে অভিযোগ। স্থানীয় দোকানের আবর্জনাও ওই পুকুরে পড়ে। বর্তমানে ওই পুকুরের উপরে প্রচুর কচুরিপানা তৈরী হয়েছে।এলাকার নোংরা আবর্জনা সঠিক ভাবে পরিষ্কার না হওয়ায় এই পুকুরটি কার্যত ভ্যাট হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট আইনজীবী তথা পরিবেশ প্রেমী সুশান্ত কুন্ডু বলেন, প্রায় ১২ কাঠা সরকারি পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা পড়ে দূষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। জেলাশাসক, পরিবেশ দফতর, মৎস্য দফতর, স্থানীয় পৌরসভা বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি পৌরসভা তরফে পুকুর থেকে কিছু আবর্জনা তোলা হয়েছে। তাতে কোনও লাভ হচ্ছে না। ডেঙ্গু প্রবন বারাসাতে মশা ও মাছির দাপটে এলাকায় টেকা দায় হয়ে উঠেছে।
বারাসাত পৌরসভার প্রশাসক সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা জানতে পেরে পুকুর সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। ১০০ -র বেশি কর্মী লাগিয়ে কিছু আবর্জনা তোলা হয়েছে।

