জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার গঙ্গারামপুরের মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষকতার আড়ালেই চলত নাশকতার জাল দাবি এসটিএফের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৮ আগস্ট: আল কায়দা জঙ্গি সন্দেহে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার গঙ্গারামপুরের মাদ্রাসার শিক্ষক। শিক্ষকতার আড়ালেই রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাশকতার জাল বিস্তার করছিলেন আব্দুর রাকিব সরকার বলে দাবি এসটিএফের। যদিও এমন যুক্তি কোনোভাবেই মানতে নারাজ তার পরিবার। ঘটনা নিয়ে অবাক হয়েছেন রাকিবের প্রতিবেশীরাও। যদিও তাদের দাবি, ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে রাকিবকে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের আউশা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাকিব একাধিক নামে পরিচিত ছিল। কোথাও হাবিবুল্লাহ আবার কোথাও হাবিব নামে নিজেকে পরিচয় দিতেন তিনি। ৩৭ বছর বয়সী আব্দুর রাকিব মাদ্রাসার শিক্ষক হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। নিজের এলাকার পুলিন্দা ও বাগানবাড়ি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করবার পাশাপাশি রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় গিয়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের দেশ বিরোধী বিভিন্ন কাজের শিক্ষা দিতেন, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় বোম তৈরির মাস্টার মাইন্ড রাকিব হাতে কলমে বোম বানানোর শিক্ষাও দিতেন তাদের এমনটাও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আর যে কাজের জন্যই অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতো সে। গত ২ আগস্ট বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় আব্দুর রাকিব নামে গঙ্গারামপুরের ফুলবাড়ি এলাকার ওই বাসিন্দা। যাকেই গতকাল রাতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স আল কায়দা জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে। জেলা পুলিশ প্রশাসন সুত্রের খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েকদিন আগেই যার যাবতীয় তথ্য জেলায় এসে সংগ্রহ করেছে এসটিএফ। মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে এলাকার ভালো ছেলে বলে পরিচিত থাকলেও মাঝে মধ্যেই বাইরে যেত সে, এমনটা জানিয়েছেন এলাকাবাসীও।

আলকায়দা জঙ্গি হিসেবে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রাকিব। ছোট বেলা থেকেই মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে সে। উত্তরপ্রদেশে সে পড়াশোনা করেছে। এলাকায় একটি মাদ্রাসাও চালান। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মাদ্রাসা গুলিতে, সে শিক্ষকতা করতেন। পালসা এলাকার একটি মসজিদে সে ইমামের কাজ করত বলেও জানা গিয়েছে। বর্তমানে ১২ দিন আগে তাঁর একটি সন্তান হয়েছে। পরিবারে বাবা, মা, তিন ভাইয়ের মধ্যে রাকিবই ছিল বড়। বাকি এক ভাই শিক্ষকতা করেন। ভাইয়ের বৌ অঙ্গনাওয়াড়ি কর্মী। বাবার জমি জায়গা রয়েছে কয়েক বিঘা বলেও জানা গিয়েছে।

যদিও তার বাবা ও মা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না যে ছেলে এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

এলাকার গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, রাকিব এলাকায় শিক্ষক বলেই পরিচিত ছিল। খবরে দেখে আমরা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না যে সে এমন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

জেলা বিজেপি নেতা মানস সরকার অভিযোগ করে বলেন, জঙ্গি সংগঠন গুলি সিমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে বেছে নিয়ে তারা সন্ত্রাসবাসী কার্যকালাপ চালান। তদন্ত করলেই সব বের হবে।

যদিও তৃণমূল নেতা সুকুমার মহন্ত জানিয়েছেন, যারা প্রকৃত দোষি তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যেন কড়া ব্যবস্থা নেয়। আবার যারা এমন কাজে যুক্ত নয় তাঁদের যেন কোন ভাবেই ফাঁসানো না হয়৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *