আমাদের ভারত, হুগলি, ২১ এপ্রিল: তরলের সঙ্গে
মাদক খাইয়ে এক তরুণীকে ‘গণধর্ষণে’র অভিযোগ উঠল চার যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপাড়া থানার কোন্নগরে। বুধবার বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। এদিন রাতেই ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ৪ যুবককে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোন্নগর স্টেশন চত্ত্বর এলাকায় ওই তরুণীর বাড়ি। ১ মার্চ, শিব পুজোর দিন কোন্নগর চটকল এলাকায় নিমন্ত্রণ খেয়ে যায় ওই তরুণী। সেই সময়ে তরলের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে ওই তরুণীকে ‘গণধর্ষণ’ করে ৪ বন্ধু। অভিযুক্তদের বাড়ি ওই তরুণীর বাড়ির কাছাকাছি এলাকাতেই অর্থাৎ কোন্নগর এলাকায়। প্রথমে ওই যুবতীকে একজন ধর্ষণ করে। সেদিন গোটা ঘটনাটি ভিডিও করে রাখে
অন্যান্যরা। তারপর সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে ৪ যুবক। তারপর ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও করে দেয় অভিযুক্তরা। এরপরই এই ঘটনায় বুধবার রাতে উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার পরিবার। পাশাপাশি শ্রীরামপুর মহিলা থানাতেও অভিযোগ জানায় তরুণীর পরিবার।
এই ঘটনায় পি শিবা রাও, ভি হরিশ, বি বিবেক ও আকাশ জানা নামে এলাকারই চার অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালেই চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার অর্ণব ঘোষ শ্রীরামপুর মহিলা থানায় পৌঁছে যান। তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, বুধবার রাতে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একটি মেয়ের উপর শারীরিক নির্যাতনের। সেই অনুযায়ী তদন্ত চলছে। নির্দিষ্ট মামলা করে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভিডিওর কথা শুনেছি। তবে এখনও সেটি হাতে পাইনি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত চারজনকে এদিন শ্রীরামপুর কোর্টে পাঠানো হয়েছে।
যদিও এই গোটা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কোন্নগর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কে বেবির বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলর অভিযুক্তদের ছেড়ে দিতে বলেন। যদিও কাউন্সিলর দাবি করেছেন, মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে। গতকালই তিনি এই ঘটনার কথা জেনেছেন।

