সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, ৩ মার্চ: কংগ্রেস প্রার্থীর বাড়ি লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি চালালো দুষ্কৃতীরা। এরপর খুনের হুমকি দিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ হাইস্কুল মোড়ে তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তাপস মুখার্জির বাড়িতে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বনগাঁর তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তাপস মুখার্জির মেয়ে দেবযানী চ্যাটার্জি, পুরভোটে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেসের সমর্থনে দাঁড়িয়েছিলেন। ভোটের দিন বহিরাগত দুষ্কৃতীরা তাঁকে নিজের বুথ থেকে বের করে মারধর করে বলে অভিযোগ। এরপর দুষ্কৃতীরা বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট দিয়ে পালিয়ে যায়। এমনই অভিযোগ মিডিয়ার সামনে করেছিলেন দেবযানী চ্যাটার্জি। তারপর থেকেই ক্ষোভ দেবযানীর উপর। সেই রাগেই দুষ্কৃতীরা বুধবার গভীর রাতে দেবযানী চ্যাটার্জির বাড়িতে গুলি চালায় এমনই অভিযোগ দেবযানীদেবীর।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে চারটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করে। দেবযানী চ্যাটার্জি বলেন, ভোটের দিন শাসক দলের প্রার্থীর সঙ্গে অশান্তি হয়। শাসক দলের পক্ষ থেকে তাকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। তারপর থেকেই তিনি নানা রকম আশঙ্কার মধ্যে ছিলেন। তাঁর মতে, তার সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, যে শত্রুতার জেরে তার বাড়িতে গুলি চললো। এই শত্রুতার সূত্রপাত হয়েছিল ভোট কেন্দ্র থেকেই। আতঙ্কে রয়েছে দেবযানী চাটার্জি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সমস্ত বিরোধী দলের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক। কিন্তু ভোটের দিন থেকেই অশান্তির সৃষ্টি হয়। তারপর থেকে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি আমি।” এছাড়া আমিতো ভোটেও জয়ী হয়নি, যে তাঁর জন্য রাগ থাকবে। এরপরও কেন আমার উপর এটা হচ্ছে।
এমন অভিযোগ শোনার পর তৃণমূলের প্রাক্তন প্রশাসক গোপাল শেঠ বলেন, বনগাঁর মানুষ আমাদের দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন। এরপরও এমন সন্ত্রাস তৃণমূল কখনও মেনে নেবে না। এই সব বন্ধ হওয়া উচিৎ। প্রশাসনের সঙ্গে এই নিয়ে আমি ইতিমধ্যেই কথা বলেছি, সঠিক তদন্ত করে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করা হোক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

