পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৭ আগস্ট: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে নিখোঁজ খড়্গপুরের প্রেম বাজারের বাসিন্দা তথা প্রাক্তন রেলকর্মী স্বপন কুমার সিনহা। গত ২১ আগস্ট কলকাতার ‘চলো যাই ক্লাব’- এর সঙ্গে কৈলাস ও মানস সরোবর ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর কোনওভাবে যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ফলে প্রতি মুহূর্তে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বপনবাবুর পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজ স্বপন কুমার সিনহার ছেলে বিক্রম কুমার সিনহা জানান, গত ২১ আগস্ট তাঁর বাবা কলকাতার ‘চলো যাই ক্লাব’- এর একটি দলের সঙ্গে কৈলাস, মানস সরোবর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে তাঁর নিয়মিত কথা হয়েছিল। কিন্তু এরপরই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই সময় থেকেই বাবার সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিক্রমবাবু বলেন, “সংবাদমাধ্যমে নেপালে ভয়ঙ্কর হড়পা বানের খবর দেখার পর থেকেই আমরা বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। বারবার ফোন করেও কোনও সাড়া পাচ্ছি না। যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বাবা গিয়েছেন, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরাও এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চিত খবর দিতে পারেননি।”
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার ইতিমধ্যেই নেপালে ভারতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বিক্রমবাবুর দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বপন কুমার সিনহার যাবতীয় পরিচয় ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পরিবারের ফোন নম্বর-সহ সমস্ত তথ্য নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া গেলে পরিবারকে জানানো হবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও ভবানী ভবনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে স্বপনবাবুর পরিবার। কিন্তু নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় সেখান থেকেও এই মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে।
স্বপন কুমার সিনহার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রেম বাজার এলাকাতেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর সন্ধান পাওয়ার আশায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
বিক্রম কুমার সিনহার কথায়, “প্রতিটি ঘণ্টা আমাদের উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটাতে হচ্ছে। বাবার কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে না। যত দ্রুত সম্ভব তাঁর সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।”
নেপালের দুর্গম এলাকায় চলমান উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানের মধ্যেই এখন স্বপনবাবুর পরিবারের একটাই অপেক্ষা, কখন আসে নিখোঁজ প্রিয়জনের কোনও খবর।

