জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৮ সেপ্টম্বর: হিংসার রোষানলে ভাঙ্গচুর হয়েছে ঘরবাড়ি। লুট হয়েছে বাড়ির সামগ্রী। মাঠ থেকে তুলে নিয়েছে সাবমার্শিবাল। মাথা গোঁজার আস্তানা ঘরটুকুও নেই। ঘটনার সাড়ে চার মাস পরও অসহায়ভাবে বিজেপিকর্মীদের দিন কাটছে বাড়ির বাইরে। অভিযোগ, ক্ষতিপুরণ জোটেনি। এমনকি দুর্দিনে দলের সাহায্যও জোটেনি। মার্মান্তিক ঘটনার শিকার হয়ে আউশগ্রামের প্রেমগঞ্জের এখন পাঁচ পরিবারের বাড়ির বাইরে দিন কাটছে। পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে আউশগ্রাম-২ নং পঞ্চায়েত সমিতি।
প্রসঙ্গত, গত ২ মে রাজ্য বিধানসভার ফলাফল ঘোষনার পরই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা শুরু হয়। বিজেপিকর্মীদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুর, আগুন ধরিয়ে দেওয়া, লুঠপাটের অভিযোগ ওঠে। হিংসার আগুন থেকে রেহাই মেলিনি জঙ্গলমহলের আউশগ্রামের প্রেমগঞ্জে বিজেপিকর্মীদের। প্রেমগঞ্জের বাগদীপাড়ার প্রায় ২৮ টি পরিবার বছর সাতেক ধরে বিজেপি করছিলেন। বিধানসভা ভোটেও শামিল ছিলেন। কিন্তু গত ২ মে বিধানসভার ফলফল ঘোষণা হতেই তাদের ওপর অমানবিক আক্রমণ শুরু হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত বিজেপিকর্মীরা আতঙ্কে দু’মাস গ্রামছাড়া ছিলেন। কেউ ভিন জেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে। কেউ পার্শ্ববর্তী গ্রাম ভাতকুন্ডার এক প্রান্তে তাবু খাটিয়ে দিনযাপন করছিলেন। হিংসার ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো শুরু হয়। গত জুন মাসে বেশ কিছু পরিবার ঘরে ফেরে। ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগ ওইসব পরিবারের ত্রাণের ব্যাবস্থা করে। কিন্তু এখনও আক্রান্ত ৫ টি পরিবারের গ্রামের বাইরে দিন কাটাচ্ছে। প্রশ্ন কেন এখনও বাইরে?

জানা গেছে, প্রেমগঞ্জ গ্রামের সুভাষ বাগদী, বারুপদ বাগদী, ভিম বাগদী, কালিপদ বাগদী, মুক্তোসোনা বাউরি, সুশীল বাউরি এখন গ্রামের বাইরে। ঘরছাড়া ওই গ্রামের বিজেপির শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ সুভাষ বাগদী জানান, “ঘর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। লুট করে নিয়েছে বাড়ির যাবতীয় সামগ্রী। রান্না করে খাবার হাঁড়ি, কড়াইটুকুও নেই। ভাঙ্গচুরের পর বাড়িতে থাকার মতো পরিস্থিতি নেই। মাঠে চাষ করার জন্য সাবমার্শিবাল বসানো ছিল। সেটাও তুলে গিয়েছে। সহায় সম্বল কিছুই নেই। থাকবো কোথায়? নতুন করে ঘরবাড়ি করে বেঁচে থাকার রশদটুকুও নেই।” তিনি আরও বলেন, “লোন নিয়ে মনোহারি হকারি করতাম, গ্রামে গ্রামে ঘুরে। গত সাড়ে চারমাস সেই লোনের কানাকড়িও দিতে পারছি না। ব্যাবসা লাটে উঠেছে।” ঘরছাড়া ওই পাঁচ পরিবারের সদস্যরা বলেন, “সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কিছুই জোটেনি। এমনকি দলের তরফ থেকেও সেরকম কোনও সাহায্য জোটেনি। তাই অসহায় অবস্থায় গ্রামের বাইরে দিন কাটাতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন সরকারি প্রকল্পে বাড়ি যদি তৈরি করে দেয়, তাহলে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হবে।”

যদিও বিজেপির পুর্ব বর্ধমান (সদর) জেলার সহ সভাপতি রমন শর্মা জানান, “ওই গ্রামের দলীয় কর্মীদের খোঁজ খবর রাখা হয়। দল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সাহায্যও করা হচ্ছে। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দেখছে।”
অন্যদিকে আউশগ্রাম -২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হায়দার আলি বলেন, “প্রেমগঞ্জের সব পরিবারকে বাড়ি ফেরানো হয়েছে। তারপরও এখনও পাঁচটি পরিবার বাড়ির বাইরে থাকার বিষয়টি জানা নেই। দলনেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ আছে। এরকম কোনও পরিবার বাড়ির বাইরে থাকলে, তাদের বাড়ি ফেরানোর ব্যাবস্থা ও তাদের পাশে থাকতে হবে। অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখছি। তাদের বাড়ি ফেরানোর ব্যাবস্থা করা হবে। বাড়ি তৈরীরও ব্যবস্থা করা হবে।”

