৩৩ ঘণ্টা পরেও গেঞ্জি কারখানার আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় ফের ঘটনাস্থলে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু

প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ২৮ মে: বিলকান্দা গেঞ্জি কারখানার ভয়াবহ আগুন ৩৩ ঘণ্টা কেটে গেলেও আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে না আসায় ফের একবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পৌঁছলেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। সেই সঙ্গে ঘটনাস্থলে দমকলের ডিজি ও ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা যান।

বুধবার গভীর রাতে লাগা আগুন শুক্রবার দুপুরেও সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণে না আসায় কপালে চিন্তার ভাঁজ দমকল মন্ত্রী ও দমকল আধিকারিকদের। বিধ্বংসী আগুনে ওই গেঞ্জি কারখানার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে যেকোনও মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়তে পারে কারখানার বিল্ডিং। এই বিধ্বংসী আগুনে ওই কারখানার সাথে থাকা একটি ওষুধের গোডাউনও ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

ওই বিল্ডিংয়ের মধ্যে গেঞ্জির কাঁচা মাল, সুতো, ওষুধ, স্যানিটাইজার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আর তার জন্য আগুন পুরো নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ভেতরে এখনো জায়গায় জায়গায় আগুন জ্বলছে যার ফলে বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকে কাজ করতে পারছেন না দমকল কর্মীরা। বিল্ডিংটার জায়গায় জায়গায় ফাটল ধরেছে, যার ফলে যেকোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ঐ কারখানার ৪ জন শ্রমিকের এখনো কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু দমকলেন আধিকারিক ও ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন।

গেঞ্জির কারখানার মালিকের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।কী ভাবে এই কারখানায় আগুন লেগেছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভে আসলেও এই কারখানার সমস্ত দাহ্য জিনিসগুলির ভেতরে ভেতরে আগুন জ্বলতে পারে বলে মনে করছেন দমকল আধিকারিকরা। বিল্ডিংটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত কিছু করা সম্ভব নয় বলে জানান দমকল মন্ত্রী। মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, “বাড়িটিতে ফাটল দেখা দিচ্ছে। ফলে বাড়ি ভাঙ্গা হবে কি না চিন্তাভাবনা করছি। এই করাখানার মালিকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যে চার জন কর্মীর কারখানায় আটকে থাকার কথা বলা হচ্ছে যতক্ষণ না আমরা কারখানার মধ্যে তাদের কোনও চিহ্ন পাচ্ছি ততক্ষণ কিছুই বলতে পারবো না। তবে এই কারখানায় প্রচুর সহজ দাহ্য পদার্থ ছিল তাই এত বড় আগুন লাগল। আমরা সকলে মিলে আলোচনা করছি যাতে এই কারখানাটি থেকে আর কোনও ক্ষতি না হয় কারুর।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *