অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২ জুন: “বিশ্বজগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে”— ‘সংকল্প’-তে লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। মুঠোফোনে কীভাবে গোটা বিশ্বকে পুরে খবরের দুনিয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া যায়, বৃহস্পতিবার হাতেকলমে তার এক অভিনব প্রশিক্ষণ শিবির হয়ে গেল কলকাতা প্রেস ক্লাবে।
অভিনব এই কারণে, কীভাবে ‘হেঁটে নেটে সাংবাদিকতা’ করা সম্ভব, মুঠোফোনকে পেশাগতভাবে কত দক্ষভাবে কাজে লাগানো সম্ভব, কর্মশালায় শেখালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রাজীব নন্দী। ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ১৭২ জনকে গত ছমাসে এভাবেই মুঠোফোনে সাংবাদিকতার পাঠ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ কথা জানিয়ে অনুষ্ঠানে রাজীব জানান, “এর জন্য আমি অতিমারির সময়টার কাছে ভীষণভাবে ঋণী। মুঠোফোনে সাংবাদিকতা আগেও ছিল। কিন্তু করোনার জন্য সবাই যখন ঘরবন্দি, আমি ক্রমাগত প্রযুক্তিগতভাবে বিষয়টির ওপর পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে গিয়েছি। ক্রমেই প্রসারিত হয়েছে ক্ষেত্রটা।”
এখন আর অফিসে গিয়ে কাজের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? মুহূর্তের মধ্যে হরেক প্রয়োগ দেখিয়ে রাজীব বলেন, “মুঠোফোনে সময় বাঁচবে। অর্থ বাঁচবে। অফিসে গিয়ে এত লোকলস্করের সহায়তার প্রয়োজন নেই। যেটা দরকার, তা হল তাগিদ, নিজেকে আরও ঋদ্ধ করার মানসিকতা।”
এই মানসিকতা কাউকে যতটা এগিয়ে দিচ্ছে, ততটাই সঙ্কটাপন্ন করে দিচ্ছে অনেককে। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের ফাঁকেই রাজীব জানান, “বিবিসি ১০০ জনকে ছাঁটাই করছে বলে হইচই শুরু হল। কর্তৃপক্ষ বললেন, কাউকে ছাঁটাই করা হচ্ছে না। একসঙ্গে লেখা, পড়া, দেখা— সর্বোপরি সময়ের সঙ্গে নিজেদের নবায়নে যাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন, কেবল তাঁদেরই সম্মানজনক বিদায় জানানো হচ্ছে।”
কিন্তু তাহলে সামাজিক মাধ্যমের সবাই কি সাংবাদিক? “না।” রাজীবের কথায়, “ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, সাংবাদিকতার এথিক্স মানতে হবে। নিছক সমালোচনা নয়, সমাধানের দিক নির্দেশ করতে হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে। নিজেকে আরও ঋদ্ধ করতে হবে। প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেকে আরও দক্ষ প্রমাণিত করতে হবে।” এর জন্য মুঠোফোনের সঙ্গে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রাংশ দেখিয়ে সেগুলোর ব্যবহারের কৌশল বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। কোনটার কত দাম তার আভাষ দিলেন। তা অ্যাকশন প্রো ক্যামেরা’ হোক বা ‘রেনকোট’, ‘মোজো টুলস’ বা নানা ধরণের ড্রোন। জানালেন, ৫ সেকেন্ডের মধ্যে ভিডিও ও ছোটপর্দায় একটা খবর দর্শকদের মনযোগ আকর্ষণ করতে হবে। খবরটা পরিবেশনের জম্য সময় পাওয়া যাবে তিন মিনিট।”

মিক্সিং, এডিটিংয়ের হরেক নিদর্শন দেখালেন রাজীব। এই সঙ্গে কর্মশালায় উপস্থিতরা জানলেন ‘ইনশট’-এর মত নানা ভিডিও অ্যাপ,‘স্ন্যাপসিড’-এর মত ফটো অ্যাপ, রেকফর্গোটু’-এর মত সাউন্ড অ্যাপের উপযোগিতা।
কর্মশালার শুরুতে প্রেস ক্লাব কলকাতার সভাপতি স্নেহাশিস সুর বলেন, “বছর পাঁচ ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে চর্চা করে রাজীব যেসব শিখেছেন, তার প্রয়োগ কলকাতায় দেখানোর সুযোগ পেয়ে আমরা গর্বিত। ভারতের স্বাধীনতা চট্টগ্রামের কথা উঠলেই আমাদের মনে পড়ে চট্টগ্রামের কথা। সেই চট্টগ্রামের এক নবীন শিক্ষক প্রাঞ্জল ভাষায় আমাদের পাঠ দিলেন, এর জন্য আমরা কৃতার্থ”। ক্লাবের সম্পাদক তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়মিত সফরসঙ্গী কিংশুক প্রামাণিক বলেন, “আমি বহু বছর ধরে মুঠোফোনকেই জীবনসঙ্গী করে ফেলেছি। কয়েক দশক ধরেই দেখেছি, খবরের দুনিয়ায় কী আমূল বদল এনেছে এই ফোন। প্রযুক্তির হাত ধরে এভাবেই বদলে যাচ্ছে সাংবাদিকতার ঘরানাও।”

