সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৩০ ডিসেম্বর: নিষিদ্ধ পোস্ত চাষের হদিশ পেতে ড্রোনের সাহায্যে অভিযান চালালো আবগারি বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঁকুড়া জেলা আবগারি দপ্তর, জেলা প্রশাসন ও মেজিয়া থানার পুলিশ এক যোগে নিষিদ্ধ পোস্ত চাষের এলাকা চিহ্নিত করতে মেজিয়া থানার দামোদর নদের মানাচর গুলিতে এই অভিযান চালায়। প্রতি বছরই মেজিয়া ও বড়জোড়া থানার দামোদর নদের মানাচর এলাকায় প্রচুর পোস্তর গাছ নষ্ট করা হয়।
এ ব্যাপারে বাঁকুড়া আবগারি দপ্তর কাজ করার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে পোস্ত চাষ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। পোস্ত চাষ করা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আইন অনুযায়ী কি শাস্তি হতে পারে সে বিষয়েও সচেতন করা হয়। কিন্তু তারপরও পোস্ত চাষ বন্ধ করা যায়নি। দামোদর নদের মানাচর অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় মাদক মাফিয়াদের কাছে তা স্বর্গ রাজ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে তারা মানাচরের বাসিন্দাদের একাংশকে পোস্ত চাষে উদ্বুদ্ধ করে। পোস্ত গাছ অত্যন্ত লাভজনক। পোস্তর ফল থেকে এক ধরনের আঠা বের যা থেকে আফিং তৈরি হয়। সেই আফিং থেকে নানান মাদক তৈরি হয়। যার মূল্য কোটি কোটি টাকা। পড়ে থাকা পোস্তর মূল্য আকাশ ছোঁয়া। পোস্তর খোলা থেকেও মাদক তৈরি হয়। এই খোলাও বহু মূল্যে বিক্রি হয়। এক কথায় পোস্ত হল অতি লাভজনক অর্থকরি ফসল। কিন্তু নারকোটিক বিভাগ এই চাষের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তা চাষ করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হয়। সেকারণে জেলা আবগারি দপ্তর ফি বছর লিফলেট ছড়িয়ে, মাইক দিয়ে প্রচার করে, বড় বড় পোষ্টার সাঁটিয়ে মানুষকে সচেতন করে। এমনকি সভা করে পোস্ত চাষের বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করে দেওয়া হয়। তারপরও পোস্ত চাষ বন্ধ করা যায়নি। এদিন ড্রোনের সাহায্য দামোদর নদের গভীরে থাকা চরগুলিতে পোস্ত চাষের হাল হকিকত জানতে অভিযান চালানো হয়।
বাঁকুড়া জেলা আবগারি দপ্তরের ডেপুটি এক্সাইজ কালেক্টর বিশ্বজিৎ ভক্ত বলেন, এদিন আমরা ১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ড্রোনের সাহায্য নিয়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু এলাকায় পোস্ত চাষের হদিস পেয়েছি। কত জমিতে কি পরিমাণ চাষ হয়েছে তা তদন্ত করে বোঝা যাবে। এর বেশি সংবাদ মাধ্যমে কিছু বলা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

