জে মাহাতো, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৯ এপ্রিল: ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিরবাহা হাঁসদা ভোটে জিতে যদি বিধায়ক হতে না-ও পারেন তাহলেও তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে বলে রাজ্য তৃণমূল সূত্রের খবর। তৃণমূলের রাজ্য স্তরের নেতৃত্ব বিরবাহাকে দলের সামনের সারিতে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। সাঁওতালি সিনেমার নায়িকা বিরবাহা ইতিমধ্যেই প্রশান্ত কিশোরের সুপারিশে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুডবুকে নাম তুলে ফেলেছেন। সুতরাং তিনি ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়ে বিধায়ক না হতে পারলেও দলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার পর দলনেত্রীর নির্দেশে বিরবাহা প্রচারের কাজে উত্তরবঙ্গের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় গিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সমাজে মহা নায়িকা হিসেবে এই চলচ্চিত্রশিল্পীর নামডাক থাকায় পিকের টিম তাকে উত্তরবঙ্গে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। সেখানকার আলিপুরদুয়ার, কুমারগ্রাম, মাদারিহাট বিধানসভা এলাকায় গত তিনদিন ধরে রোড শো করেছেন। আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ দিনাজপুরের আদিবাসী অধ্যুষিত তপন বিধানসভা এলাকায় বিরবাহাকে দিয়ে প্রচার কর্মসূচি চালানো হবে।
ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল সূত্রে জানাগেছে, ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার মাত্র একদিন আগে তৃণমূলে যোগ দেন বিরবাহা। তাকে তৃণমূলে যোগদান করানোর পর পিকের টিম তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে এবং এর পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরবাহাকে উত্তরবঙ্গে প্রচারের কাজে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিরবাহার মা চুনিবালা হাঁসদা ঝাড়খন্ড পার্টি (নরেন) এর সভানেত্রী।
প্রার্থী হওয়ার মাত্র একদিন আগে ঝাড়খন্ড নেত্রীর মেয়ে বিরবাহা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় খুশি হননি জেলা তৃণমূলের অনেক নেতাই। তারা বিরবাহার হয়ে সক্রিয় ভাবে প্রচারও করেননি। কার্যত তারা নির্বাচনে আগাগোড়া নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী বিরবাহা হাঁসদার লড়াই হবে সমানে সমানে। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তাই বিরবাহা এই কেন্দ্রে হেরে গেলেও তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে
জানাগেছে।

