আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বোলপুর, ৫ মে: গেরুয়া ঝড় আসতেই সতীপীঠের অন্যতম কঙ্কালীতলা মন্দিরে ‘বিধর্মীদের’ প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করল বিজেপির নেতা-কর্মীরা। এই মর্মে মঙ্গলবার মন্দির চত্ত্বর গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করে ব্যানার লাগিয়ে দেওয়া হয়৷ মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতদের জানিয়ে দেওয়া হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাউকে যেন ট্রাস্টি না করা হয়৷

প্রসঙ্গত, এই মন্দির কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। আর এই অঞ্চলের দায়িত্বে আগে ছিলেন তৃণমূলের অনুব্রত মণ্ডল গোষ্ঠীর মামন শেখ, বর্তমানে দায়িত্বে আছেন কাজল গোষ্ঠীর আলেপ শেখ৷ তারাই মন্দিরের দেখলাভ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সামলেছেন এতদিন।
রাজ্যে পালা বদল ঘটেছে৷ স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। শপথ নেওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র৷ তার জেরেই দিকে দিকে চলছে ভোটের ফল প্রকাশ পরবর্তী হিংসা সহ নানান রাজনৈতিক পালা বদল, নিয়ম, রীতি বদল৷

বোলপুর শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে সতীপীঠের অন্যতম কঙ্কালীতলা মন্দির। এই মন্দির কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। তাই মন্দিরের যাবতীয় সংস্কারমূলক কাজ থেকে কঙ্কালীতলায় পুজো, মেলা প্রভৃতি সারা বছরের অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েত৷ আগে এই সবের দায়িত্বে ছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মহম্মদ ঈহিউদ্দিন ওরফে মামন শেখ৷ বর্তমানে কঙ্কালীতলা অঞ্চলের দায়িত্বে তৃণমূল নেতা আলেপ শেখ। আর প্রায় সময় কঙ্কালীতলা মন্দিরে পুজো দিতেন, কখনও কেক কেটে মন্দির চত্ত্বরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন পালন করতেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখ।
এবার সতীপীঠ কঙ্কাকীতলায় ‘বিধর্মীদের’ প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো বিজেপি নেতা- কর্মীরা। এদিন মন্দির চত্ত্বর সহ পবিত্র কুণ্ডে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ করা হয়৷ পরে মন্দিরের গেটে একটি ব্যানার লাগিয়ে দেওয়া হয়৷ তাতে লেখা ‘জয় মা কঙ্কালী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ ব্যতীত মন্দিরে বিধর্মীদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।’ এমনকি, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতদের ডেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, যেন কোনো মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষকে মন্দিরে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়৷ পাশাপাশি কঙ্কালীতলা মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডে যেন কোনো মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের নাম না রাখা হয়৷

