সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৫ জুন: বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে বচসা ও হাতাহাতিতে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় মেজিয়ার লালবাজার গ্ৰামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে গ্রামেরই দু’পক্ষের বচসা বাধে। বচসা চলতে চলতে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। এই অবস্থায় সরিফুল খান নামে এক প্রৌঢ় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই সরিফুল খান (৫৭) মারা যান। ঘটনার পর মৃতদেহ ফেলে রেখে স্থানীয় বাসিন্দারা মারধরে অভিযুক্ত ২ ব্যক্তির গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি দাবি করে রাস্তা অবরোধ করেন। খবর পেয়ে মেজিয়া থানার ওসি চয়ন ঘোষ বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস পেয়ে অবরোধকারিরা অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে সরিফুল খান তার স্ত্ৰী ও মেয়েকে বাসে তুলে দেওয়ার জন্য লালবাজার মোড়ে বাস স্টপেজে দাঁড়িয়েছিলেন। সকাল ৭ টা নাগাদ মেজিয়াগামী একটি বাস এসে থামতেই সরিফুল খানের মেয়ে আগে উঠে যান। কিন্তু তার স্ত্ৰী উঠতে পারেননি। সেই সময় সরিফুল খান বাসের বডিতে চাপড় মেরে বাস কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকেন।ববিষয়টি বুঝতে পেরে চালক বাস থামিয়ে দেন। চালকের সঙ্গে তার বেশ কিছুক্ষণ তর্ক বিতর্ক হয়। তারপর স্ত্রীকেও বাসে তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় গ্রামেরই সামিম ও হাবিবুল নামে দুই ব্যক্তি তার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। তিনি কেন বাস চালকের সাথে তর্ক করছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন করেন।
মৃতের নাতি সামসুল খানের অভিযোগ, শুধু সামিম ও হাবিবুল নয় তাদের সঙ্গে ছিলেন সেবারতি শেখ ও আরেকজন। তিনি বলেন, চালকের সঙ্গে দাদুর স্বাভাবিক তর্ক বিতর্ক হয়। তা মিটেও যায়। কিন্তু গ্রামের এই ৩ জন বাস চালকের হয়ে ঝগড়াটা যেন নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে দাদুকে মারধর শুরু করে। ওরা গ্রামের মাতব্বর হয়ে উঠেছে। তবে কোনও পার্টি ওদের সমর্থন করে না। নিজেরাই সকলকে ভয় দেখিয়ে সর্দার সেজে বসে আছে। দাদুকে ওরা খুন করেছে। ওদের শাস্তি চাই।

পুলিশ জানিয়েছে, শামিম ও হাবিবুলের নামে অভিযোগ হয়েছে। মৃত সরিফুল খানের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওনার হার্টের সমস্যা ছিল। কিন্তু এদিন তিনি বচসার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, নাকি মারধরের ফলে মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই জানা যাবে। অভিযুক্তরা পলাতক।

