Donation, Parti, Gujarat, নামগোত্রহীন ৬টি দলের অনুদান ১৭০০ কোটি, দেশের ৫টি জাতীয় দলের থেকেও বেশি, সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

আমাদের ভারত, ৫ সেপ্টেম্বর: দেশের বড় বড়
রাজনৈতিক দলগুলির অনুদান পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক রয়েছে। তবে এর মধ্যে যে তথ্য হিন্দি বিবিসি সামনে এনেছে তা মারাত্মক। দেশের প্রথম সারির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অনুদান বাবদ যে টাকা পাচ্ছে তার তুলনায় বেশি অনুদান পাচ্ছে কতকগুলো নাম গোত্রহীন অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য তুলে ধরে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে হিন্দি বিবিসি।

এই সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২- ২৩ অর্থবর্ষে গুজরাটে ৬টি নাম গোত্রহীন অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল চাঁদা বাবদ পেয়েছে ১৭০০ কোটি টাকা। এই দলগুলি হলো সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, আম জনমত পার্টি, গরিব কল্যাণ পার্টি, স্বাধীনতা অভিব্যক্তি পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল, নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি। এই সবকটির সদর দপ্তর আমেদাবাদ। একটির সদর দপ্তর গুজরাটের আনন্দে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি চাঁদা পেয়েছে আম জনমত পার্টি। প্রায় ৬২০ কোটি টাকা। সত্যবাদী রক্ষক পার্টি পেয়েছে ৩৩০ কোটি টাকা। সেভাবে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিও চোখে পড়ে না এদের।লোকসভা নির্বাচন তো বটেই, গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনেও সেভাবে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি দলগুলিকে। এই ৬টি দলের মোট রাজনৈতিক চাঁদার পরিমাণ বিজেপিকে ছাড়া দেশের বাকি পাঁচটি জাতীয় দলের সম্মিলিত অনুদানের সমান।

কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, সিপিএম এবং এনপিপির প্রাপ্ত সম্মিলিত চাঁদার চেয়েও বেশি। এই দলগুলি সম্মিলিতভাবে ওই বছর চাঁদা পেয়েছিল ১৪৮০ কোটি টাকা। ২০২২- ২৩ অর্থবর্ষে যেখানে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ২৮১ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল, সেখানে নাম গোত্রহীন আম জনমত পার্টি প্রায় ৬২০ কোটি টাকা পেয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস গোটা দেশে ৩২৮টি আসনে লড়লেও এই দলগুলি লড়েছিল মাত্র ১৬টি আসনে। দলগুলি দাবি করেছে, তারা বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করেছে জনসেবা মূলক কাজে, রাজনৈতিক কাজে নয়।

কেন এই দলগুলি এত অনুদান পেল? রাজনৈতিক দলের চাঁদার মধ্যে কোনো বেআইনি কিছু নেই। আইন মেনে চাঁদা নিতে পারে যে কোনো রাজনৈতিক দল, কিন্তু এই ধরনের নাম গোত্রহীন দলের চাঁদা পাওয়াটা সন্দেহের ঊর্দ্ধে নয়। অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা আয়কর বাঁচাতে মোটা টাকা জমা করে দেয়। পরে দলগুলি নামমাত্র সার্ভিস চার্জ নিয়ে সেই টাকা ফেরত দেয়। আবার অনেক সময় মূল ধারার দলগুলিও ঘুর পথে এই দলগুলির মাধ্যমে অনুদান তোলে। এখন গুজরাটের এই দলগুলি তেমন কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কি না সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ বিবিসি’র প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, এই দলের অধিকাংশ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *