সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ৪ জানুয়ারি: দুঃস্থদের শীতবস্ত্র ও মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের সাহায্যর জন্য বিধায়ক ভাতার টাকা প্রদান করলেন বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জি।বড়জোড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অলক মুখার্জি তার বিধায়ক ভাতার এক মাসের সাম্মানিক ভাতা ও দুঃস্থদের জন্য শীতবস্ত্র তুলে দিলেন রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী মুক্তিপ্রদানন্দজী মহারাজের হাতে। সেই সঙ্গে তাঁর বিধানসভা এলাকার ১৭ জন দুঃস্থ মেধাবী ছাত্র ছাত্রীর উচ্চ শিক্ষার জন্য নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় বই দান করলেন। আজ বড়জোড়ার হাসপাতাল মোড়ের কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে বিধায়ক তার অনুদান তুলে দিলেন। এই অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিডিও সুরজিৎ পন্ডিত, জেলা পরিষদের সদস্য টিঙ্কু মন্ডল সহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা।
অলক মুখার্জি বলেন, আমি বিধায়ক হিসেবে যে মাসিক সাম্মানিক ভাতা পাই সেই টাকা আমার নূন্যতম খরচের জন্য রেখে বাকি টাকা এলাকার দুঃস্থদের জন্য খরচ করি। তিনি বলেন, আমার দাদু প্রয়াত শিশির মুখার্জি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তার আদর্শ ছিল দেশপ্রেম। সেই শিক্ষা থেকে আমি বুঝেছি মরণশীল মানুষ সঙ্গে করে কিছুই নিয়ে যায় না। তাছাড়া পরিবারের শিক্ষা স্বাস্থ্য সহ স্বচ্ছ ভাবে জীবন ধারণের জন্যও খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না। তাই আমি যে মাসিক ভাতা পাচ্ছি তা নিজের প্রয়োজন মিটিয়েও যথেষ্ট। তাই একমাসের ভাতা ৮১ হাজার টাকার চেক আমি রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশনকে দান করলাম। ওই অর্থে এলাকার দুঃস্থ মহিলাদের স্ব-রোজগার প্রশিক্ষণের কাজে লাগাবেন মঠ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও আমার এলাকার ১৭ জন দুঃস্থ মেধাবী ছাত্র ছাত্রী রয়েছেন তাদের অনেকেই বই কিনতে পারেননি। এক একটি বইয়ের দাম অনেক। ফলে তারা ঠিক মত পড়াশোনা করতে পারছেন না। তাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য নগদ ১০০০ টাকা ও প্রয়োজনীয় বই তুলে দিলাম।
বিডিও সুরজিৎ পণ্ডিত বলেন, অলক মুখার্জি যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার এই উদ্যোগ রাজ্য তথা দেশের সাংসদ, বিধায়কদের কাছে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেই আমার বিশ্বাস। মিশনের মহারাজ স্বামী মুক্তিপ্রদানন্দজী বলেন, বিধায়কের দেওয়া অর্থ মঠের স্ব-রোজগার প্রকল্পে খরচ করা হবে। এই অর্থে সেলাই মেশিন ও শালপাতার থালা বাটি তৈরির মেশিন কেনা হবে। তারপর এলাকার দুঃস্থ মহিলাদের নিয়ে মঠের অমরকানন শাখার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাদের ট্রেনিং দেওয়া হবে। এই অনুষ্ঠানের পরই তিনি বড়জোড়া বাজারে করোনা বিধি পালন দেখতে যান। গিয়ে দেখেন অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ছাড়াই বাজারে ঘুরছেন। অনেক ব্যবসায়ীর মুখেও মাস্ক না দেখে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী এতভাবে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন তারপরও তারা করোনা নিয়ে কেমন উদাসীন। বেশ কয়েকজনকে তিনি ধমকও দেন। তারপর তাদের মুখে মাস্ক পরিয়ে করোনা সম্পর্কে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান।

