আমাদের ভারত, বীরভূম, ১১ অক্টোবর: তৃণমূলের ‘আমরা ওরা’ সংস্কৃতিতে ছেদ পড়ল বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে আয়োজিত বস্ত্রদান অনুষ্ঠানে। রবিবার আশিসবাবুর বাড়িতে আয়োজিত বস্ত্রদান অনুষ্ঠানে দুই তৃণমূলের নেতৃস্থানীয় কারও দেখা না মিললেও মঞ্চ আলো
করেছিলেন কংগ্রেসের একাধিক জেলা নেতৃত্ব। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, আমন্ত্রণ পেয়েই তাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

প্রতি বছর ঈদ হোক কিংবা দুর্গাপুজো, রামপুরহাট বিধানসভা এলাকার মানুষদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিতেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও মমতাময়ী মানবিক স্টলের বস্ত্রদান অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে থাকতেন আশিসবাবু। কিন্তু ১৬ আগস্ট তাঁর অকাল মৃত্যু সব কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। এক সময় হাঁসন বিধান সভার কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদকে কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনিয়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা অসন্তুষ্ট হতেন। কিন্তু দলের নির্দেশকে উপেক্ষা করতে পারেননি। নিজের যন্ত্রণাকে বুকের মধ্যে চেপে রেখেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সেই শৃঙ্খলার শিকল ছিঁড়ে গিয়েছে।

মৃত্যুর আগেই অবশ্য আশিসবাবু (ঋতব্রত তৃণমূল) ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। কিন্তু এদিন বস্ত্রদান অনুষ্ঠানে দুই তৃণমূলের তেমন কাউকে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র আশিসবাবু ঘনিষ্ঠ রামপুরহাট পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান সুকান্ত সরকার, কাউন্সিলর অনিন্দ্য সাহা উপস্থিত ছিলেন। আশিসবাবুর ভাইপো সমস্ত বিষয়টি একাহাতে সামলান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী, হাঁসনের প্রাক্তন বিধায়ক মিল্টন রশিদ, জেলা কংগ্রেস নেতা সঞ্জিবুর রহমান।

সঞ্জয়বাবু বলেন, “আমন্ত্রণ পেয়ে আমরা এসেছি। আশিসবাবুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করলাম। উনার পরিবারের সঙ্গে কথা বললাম। রাজনৈতিক পথ আলাদা হতে পারে কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা নেই।”
মিল্টন রশিদ বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক অন্যায়কে তিনি মুখ বন্ধ করে সহ্য করে নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মধ্যে অন্য ব্যক্তিত্ব ছিল, সেটা আমরা ব্যক্তিগত আলোচনায় বুঝতে পেরেছি। তাছাড়া উনি আমার শিক্ষক ছিলেন। ফলে পরিবারের আমন্ত্রণ পেয়ে তাঁর বাড়িতে হাজির হয়েছি।”

একইভাবে তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের রামপুরহাট মহকুমার প্রাক্তন সভাপতি আব্দুর রেকিবের পৃথক বস্ত্রদান অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়েছিলেন জেলা কংগ্রেস নেতারা।

