তৃণমূল মে মাসে চলে যাবে, তার ডেথ সার্টিফিকেট লেখা হয়ে গেছে: দিলীপ ঘোষ

আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ৮ ডিসেম্বর:
দিলীপ ঘোষ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দুদিনের সফরে এসে দ্বিতীয় দিনের সফর শুরু করেন দিঘা থেকে। শনিবারের কর্মসূচির শেষে তিনি দিঘায় এসে রাত্রিবাস করেন। রবিবার সকালে সৈকত নগরী দিঘায় এদিন সকালে মর্নিং ওয়াক করেন। মর্নিং ওয়াকের শেষে দিঘার সীহক গোলায় চায়ে পে চর্চায় অংশ নেন তিনি। চায়ে পে চর্চা থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ শুরু করেন। কয়েকদিন আগে জেল থেকে সুদীপ্ত সেনের লেখা চিঠি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, অনেকের নাম এসেছে। যিনি চিঠি লিখেছেন সেই চিঠির সত্যতা যাচাই করা হোক। যদি মনে হয় সঠিক তথ্য প্রমাণ আছে তারপর সিবিআই যাকে জিজ্ঞেস করার করবে। জেলের আসামীর কথা কেউ বিশ্বাস করে না। যদি সত্যিই তিনি কাউকে টাকা দিয়ে থাকেন কেন দিয়েছেন তার জন্য উনাকেই আগে ধরা হোক। তারপর যারা ঘুষ নিয়েছে তাদের জিজ্ঞেস করবে সিবিআই।

দিঘা থেকে এদিন সকাল সাড়ে দশটায় কাঁথি এসে পৌঁছান দিলীপ ঘোষ। কাঁথির মেচেদা বাইপাসে তাকে সম্বর্ধনা জানাতে উপস্থিত ছিল বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এরপরে এক হাজার কর্মী-সমর্থকের বাইক মিছিলের সঙ্গে কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের চণ্ডীভেটি পৌঁছান দিলীপ ঘোষ। দেশপ্রাণ বীরেন্দ্র শাসমলের জন্মভিটা ‘চন্ডীভেটিতে’ গিয়ে দেশপ্রাণের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন স্থানীয় বিজেপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে। এরপর কিষান র‍্যালিতে অংশ নেন দিলীপ ঘোষ। এদিনের গোটা কর্মসূচিতে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার, বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক তাপস দোলুই, সম্পাদক নবীন প্রধান সহ অন্যান্যরা।

চন্ডী বেদীতে মাল্যদানের পর কিষাণ র‍্যালি শুরু হয় কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের চালতি থেকে মুকুন্দপুর পর্যন্ত। প্রায় পাঁচ কিমি রাস্তায় রোড শো করেন দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা। এই কিষাণ র‍্যালিতে বিজেপি কর্মী সর্মথকদের উদ্দীপন্না ছিল চোখে পড়ার মতো। কিষাণ র‍্যালির শেষে মুকুন্দপুর বাজারে পথসভা করেন দিলীপ ঘোষ। এখানেও তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে একের পর এক কটাক্ষ করেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, সবাই মিলে লড়বো, নতুন বাংলা গড়বো। দিদিমণি দিঘাকে-গোয়া, দাজিলিংকে- সুইজারল্যান্ড বানাবেন বলেছিলেন। পাহাড় দিদিমণিকে এমন তাড়া করেছে তিনি তিনবছর ফিরেও তাকাননি। মিলিটারি আনতে হয়েছে। রাজ্য সরকারকেও তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন তিনি। ডিসেম্বর মাস থেকে রাজ্য সরকারের ডেথ সার্টিফিকেট লেখা হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল পার্টিতে আর কেউ থাকবে না। প্রত্যেকদিন একটার পর একটা দেওয়াল ধসে পড়ছে। এতদিন অপমান নিয়ে তৃণমূল নেতারা বেঁচে ছিলেন। এবার তারা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, দিদিমণি যাকে যাকে ভালবাসেন তাকে মামলা দেন। আমার নামে ৪০টি মামলা করেছে। আমি কেসের মালা পরে নিয়েছি। আমি তো একবারও বলিনি জেলে যাব। কিন্তু দিদিমণি বলছেন জেলে যাবেন। দিদিমণি ভোরবেলা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এখন স্বপ্ন দেখছেন জেলের মধ্যে আছেন। কয়েকটা ভাই ঘুরে এসেছে। দিদিমণি আপনিও যাবেন জেলের ভাত খাবেন। লালুপ্রসাদ যদি জেলের ভাত খেতে পারেন, আপনার কি অসুবিধা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আপনারা সিপিএমের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে দিদিমণিকে মুখ্যমন্ত্রী বানালেন। তিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। দিদিমণির জায়গা নেওয়ার জন্য এখন ভাইপো বড় হয়ে গেছে। মাঝখানে আর কেউ নেই। বাকি তৃণমূলের সবাইকে কর্মচারী হয়ে কাজ করতে হবে। যারা আসতে চান সবাইকে বিজেপিতে স্বাগত জানানো হবে।

দিলীপবাবু আরও বলেন, করোনা যাবে যাবে বলে যাচ্ছে না। কবে যাবে বলতে পারব না। তবে তৃণমূল মে মাসে চলে যাবে। তার ডেথ সার্টিফিকেট লেখা হয়ে গিয়েছে। এরপর বিকেলে দিলীপ ঘোষ পটাশপুরের আড়গোয়াল থেকে প্রতাপদিঘি পর্যন্ত পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। প্রায় ১০ হাজার কর্মী সমর্থক নিয়ে পদযাত্রা করেন তিনি। এরপর প্রতাপদিঘিতে একটি পথ সভা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *