আমাদের ভারত, ১ এপ্রিল: নন্দীগ্রামের বয়ালে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট বুথে অবরুদ্ধ তখন দক্ষিণ ২৪ পরগনা মথুরাপুরে জনসভা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর সেনার ঘেরাটোপে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেরিয়ে সাংবাদিকদের বৈঠক করেন তারপরই হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় জনসভা শুরু করেন মোদী। আর এই সভাতেই নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গকে টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলা যা চাইছে সেটাই হয়েছে নন্দীগ্রামে। দিদি প্রথমে ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে গিয়েছেন, পরে বুঝলেন সেটা ভুল করেছি।” আজ মোদীর বক্তব্যে বারবার স্পষ্ট হয়েছে নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। এককথায় দ্বিতীয় দফার ভোটের দিনই বাংলা দখলের প্রত্যয় শোনা গেছে মোদীর গলায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, “দিদিকে দেখুন তাহলেই সব বুঝে যাবেন, দিদিই ওপিনিয়ন পোল, দিদিই এক্সিট পোল। ওর চোখ, মুখ, হাবভাবে সব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।”
মোদী এদিন দাবি করেছেন, বাংলায় যে আসল পরিবর্তনের হাওয়া বইছে তার প্রথম দফাতেই বোঝা গিয়েছে। আজ তিনি দাবি করেছেন, ২০০বেশি আসনে বিজেপি জিতে বাংলায় ক্ষমতায় আসবে। আজ তৃতীয় দফার ভোট প্রচারের জন্য রাজ্যে এসে আবারও সিন্ডিকেট সরকার বলেই মমতা সরকারকে আক্রমণ করেছেন মোদী। তিনি বলেছেন, দিদি শুধু বাধা দিতে জানেন সবকিছুতে। শিল্পকে ধ্বংস করেছেন। কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই ১০ বছর সরকার চালিয়েছেন। কিন্তু একবিংশ শতকের বাংলায় ওই সরকার চলবে না। বাংলায় প্রয়োজন এক দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সরকার, যারা পরিকল্পনা করে বাংলার উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করবে।
মোদী বলেন, বাংলায় পাট ও জরি শিল্পের অবস্থা সবার জানা। এতদিন ধরে বাংলা যা অর্জন করেছিল গত ১০ বছরে তা খুইয়েছে মমতা। আজ বাংলার শিক্ষক শিক্ষিকা নিজের রক্ত দিয়ে চিঠি লিখতে বাধ্য হচ্ছেন। মোদী কটাক্ষ করে বলেন, দিদির সরকার মানে তোলাবাজি সরকার, সিন্ডিকেটের সরকার, মা-বোনদের উপর অত্যাচারী সরকার। দিদির শুধু একটাই লক্ষ্য সব কিছুতেই কাটমানি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলার যুব সম্প্রদায় চিন্তিত। গোটা দেশে যখন, নতুন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে তখন বাংলা প্রতিদিন কাজের অজস্র সুযোগ হারাচ্ছে। মোদী বলেন, গত ১০ বছরে বাংলায় কি শিল্প হয়েছে জানেন? তোলাবাজি শিল্প, মাফিয়া শিল্প, চুরি শিল্প। দিদি গরিবদের কাছ থেকে তাদের স্বাস্থ্য আর যুব সম্প্রদায়ের থেকে তাদের ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে হুংকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দিদি বাংলার লোক আপনাকে চিনে গিয়েছে। বাংলার মানুষ আপনার ওপর ক্ষুব্ধ। বাংলার রায় থেকে আপনাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। বাংলা এই ভোটে আপনাকে শাস্তি দেবে। প্রথম দফার পরে আপনি নিজেও ব্যাপারটা ভালো করে বুঝে গিয়েছেন। কিছুক্ষণ আগে নন্দীগ্রামে যা হল তাতে স্পষ্ট দিদি হারছেন সেটা দিদি বুঝতে পেরেছেন।”

