আমাদের ভারত, ২২ জুলাই: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির ধর্না নিয়ে শেষ পর্যন্ত মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাহুল গান্ধী সহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ছাত্রদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষা মন্ত্রীর দাবি, কংগ্রেস নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে সমাধান করার চেষ্টা না করে সংসদের বাদল অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সোনাম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে মঙ্গলবার রাতে গুড়গাঁওয়ের হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং।
ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগের সুরে সোশ্যাল মিডিয়া লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে কংগ্রেসের বিক্ষোভ জনসাধারণের জন্য চরম অসুবিধার সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরো লিখেছেন, সরকার সংসদে নিট সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা করতে রাজি থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছে। তারা নির্লজ্জভাবে ছাত্রদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে। সরকার আলোচনার সব পথ খোলা রাখা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী জোর করে সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।
তাঁর দাবি, কংগ্রেসের উদ্দেশ্য কখনোই শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান করা ছিল না, বরং রাজনৈতিক কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই ছিল মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, সরকার সংসদে নিট সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উদ্বেগ গুলো দূর করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মন্ত্রী আরো বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের জবাব দেওয়ার দায়বদ্ধতা রয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ছাত্র যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা বঢরা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খারগে সহ কংগ্রেস সাংসদরা। পরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং শরদ পাওয়ার পন্থী এনসিপি সুপ্রিয় সুলেও সেখানে যান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান বিক্ষোভ না করার জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং মারফত বার্তা দিয়েছিলেন অমিত শাহ, কিন্তু তা উপেক্ষা করে রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি শুরু করায় সন্ধেবেলায় রাহুল গান্ধীদের আটক করে পুলিশ সন্ধেবেলাতেই নিয়ে যায় থানায়। এরপরে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী শিবসেনা নেতৃত্ব থানায় যান। রাতে মুক্তি পান রাহুলরা।
অন্যদিকে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে সোনাম ওয়াংচুককে গুরুগাঁওয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সফদরজং হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, ছুটির সময় তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে মঙ্গলবার রাতে গুরুগাঁওয়ের হাসপাতালে যান জে পি নড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
শিক্ষা দুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে অনশন শুরু করেছিলেন সোনাম ওয়াংচুক।

