উপাচার্য নিয়োগ প্রশ্নে ফের তোপ ধনকরের

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৫ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে ফের তোপ দাগলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এই সঙ্গে শনিবার তিনি অভিযোগ করেন, আচার্যের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে নিয়োগ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছে ২৫টি।

রাজ্যপাল একটি টুইটারে লিখেছেন, “শিক্ষার পরিবেশ-‘শাসকের আইন, আইনের শাসন নয়’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আচার্যের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে ২৪টি (এখন ২৫টি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ করা হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সোনালী চক্রবর্তী কোনও নির্বাচন ছাড়াই দ্বিতীয়বার পূর্ণ চার বছরের মেয়াদ পেলেন। ১৭ আগস্টের যোগাযোগের জন্য যে চিঠি দিয়েছি, মুখ্যমন্ত্রীর তার কোনও প্রতিক্রিয়া নেই।

অপর টুইটারে রাজ্যপাল এদিন লিখেছেন, ২৮ অগাস্টের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মমতার প্রশাসন সোনালী চক্রবর্তীকে দ্বিতীয় চার বছরের মেয়াদের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (পৃষ্ঠপোষকতার একটি ক্লাসিক কেস) নিযুক্ত করে। আচার্য ১৬ সেপ্টেম্বর প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন। কোনও প্রতিক্রিয়া নেই (শিক্ষামন্ত্রী) ব্রাত্য বসুর। অবস্থানটা ‘নিজের হাতে আইন’-এর মত। ‘শাসকের আইন, আইনের শাসন নয়’-এর উদাহরণ।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত পুরনো। শুক্রবার সেই ইস্যু নতুন মাত্রা পায় আচার্য-রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়াই ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুরাধা মুখোপাধ্যায় ও সংস্কৃত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শিক্ষা দফতর পরস্পরের দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। শনিবার তাঁরা দু’জন নতুন দায়িত্ব বুঝে নেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু টুইট করে বলেন, ‘মাননীয় মনোনীত আচার্যকে এখনও বলব, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে তৃতীয়বার সহযোগিতা করুন। যুদ্ধং দেহি মনোভাব রেখে নিজের অভিপ্রায় শিক্ষা দফতরের ওপর চাপাবেন না।”

প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগে আচার্য পদে মুখ্যমন্ত্রীকে মনোনীত করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *