৫ হাজার হিন্দুর বাস, কিন্তু নেই কোনো মন্দির! মানুষের আবেদনে মুর্শিদাবাদের শুকুর পুকুর গ্রামে মন্দির নির্মাণে উদ্যোগী হলেন সিংহ বাহিনীর দেবদত্ত মাজি

আমাদের ভারত, ২ ফেব্রুয়ারি: মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর থানার শুকুর পুকুর গ্রাম। এই গ্রামে ৫ হাজার হিন্দু বসবাস। সীমান্তবর্তী এই গ্রামে কোনো মন্দির নেই। ৩৭ বছর ধরে একটি টিনের চালাতে বছরে একবার দুর্গাপূজা হতো। সেই গ্রামে দুর্গা মন্দির তৈরি জন্য এগিয়ে এলেন হিন্দু নেতা সিংহবাহিনীর সভাপতি দেবদত্ত মাজি।

সিংহবাহিনীর সভাপতি দেবদত্ত মাজি ওই মন্দিরের জায়গায় ৩৩ ফুট লম্বা ৩৩ ফুট চওড়া এবং ৬৫ ফুট উঁচু একটি বিশাল দুর্গা মন্দির নির্মাণের শিলান্যাস করলেন আজ। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলডাঙ্গার ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামীজি প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ। মন্দির নির্মাণ উপলক্ষে আজ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ খোল, করতাল নিয়ে হরিনাম করতে করতে গ্রাম পরিক্রমা করেন এবং স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজকে শোভাযাত্রা সহকারে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি দিয়ে মন্দির নির্মাণের জায়গায় নিয়ে আসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেবদত্ত মাজি বলেন,”সীমান্তের জেলা মুর্শিদাবাদে হিন্দুরা আজ সংখ্যালঘু। সেই জেলার রেজিনগরের বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে কোনো মন্দির নেই, যেখানে হিন্দুরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ভগবানকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবে। স্থানীয় বাসিন্দা আকুলদার মাধ্যমে এই বিষয়টি জানার পরেই সিংহবাহিনী সিদ্ধান্ত নেয় এই বিরাট এলাকার হিন্দুদের জন্য একটি মন্দির গড়তে সিংহবাহিনী সাহায্য করবে।”

দেবদত্ত মাজি বলেন, “এই গ্রামের মানুষের চাহিদা ছিল মা দুর্গার মূর্তি স্থাপন করার। সেটা জানতে পেরে আমার আগ্রহ আরও তীব্র হয় এখানে মন্দির স্থাপনের। আমি বিশ্বাস করি হিন্দু ধর্মের মানুষের উপর যে কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে তা দূর করতে পারে দেবীশক্তি। আমাদের হিন্দু মা বোনদেরও ধর্ম রক্ষা করতে দেবী দুর্গা হয়ে উঠতে হবে। হারিয়ে যাওয়া ভিটেমাটি ফিরে পাওয়া জন্য সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। ধর্মের প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য পালন করলে তবেই আমরা আমাদের বর্তমান বাড়ি, জমি, সামাজিক সম্মান যেমন সুরক্ষিত রাখতে পারব তেমনি হারিয়ে যাওয়া ভিটেমাটি ফিরে পাব।”

এদিনের অনুষ্ঠানে আপ্লুত গ্রামের সাধারণ মানুষ। গ্রামের বাসিন্দা আকুল মন্ডল বলেন, “আমরা শুনেছিলাম সিংহবাহিনীর দেবদত্ত মাজি হিন্দুদের জন্য কাজ করছেন। হিন্দু মেয়েদের রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছেন। তাই আমরা তাঁর কাছে সাহায্যের আবেদন করেছিলাম। তিনি আমাদের সেই আবেদন পূর্ণ করেছেন।”

গ্রামের আর এক বাসিন্দা সুশান্ত সরকার বলেন,”আজ আমাদের চরম পাওয়া। আমাদের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করলেন দেবদত্ত মাজি। এই আনন্দে আমাদের গ্রামে আজ মহোৎসব হচ্ছে। গ্রামের সমস্ত মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *