অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২১ ডিসেম্বর: অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও ইছাপুর নবাবগঞ্জের বাসিন্দা নিপা মারিকের মরদেহ দান করা সম্ভব হল না। এ ব্যাপারে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চূড়ান্ত অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটে মাত্র ৪৬ বছর বয়সী নিপা মারিক মারা যান। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগ তাদের স্থানাভাবের কারণে নিপা মারিকের মরদেহ গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে জানান। রাতের জন্য দেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল দেহ তাদের মর্গে রাখতে অস্বীকার করে। পরে নানা টালবাহনার পরে মরদেহ রাখতে বাধ্য হয়।
‘গণদর্পণ’-এর সহায়তায় সোমবারই ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজে দেহ দান করার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সময়ের কারণে সোমবার ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে মরদেহ দান করা সম্ভব হয়নি। কথানুযায়ী মঙ্গলবার দান করার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলবার ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজের মরদেহ দানের জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়ে দেখা যায় যে নিপা মারিকের কোনও করোনা টেস্ট করা নেই। বর্তমানের নিয়মানুযায়ী করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া মরদেহ দান করা সম্ভব নয়।
পেটে টিউমার নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর ২১ তারিখ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এত দিনে নিপা দেবীর করোনা টেস্ট হয়নি। এ কথা জানিয়ে ‘গণদর্পণ-এর অন্যতম সম্পাদক শ্যামল চ্যাটার্জি জানান, “নিয়মানুযায়ী সরকারি বা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এতদিন হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও কেন করোনা পরীক্ষা হয়নি? তার কোনও উত্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেননি।“
এ ব্যাপারে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারি সুপার ডাঃ শিল্পী ঘটক বলেন, একমাত্র উপসর্গ মনে হলেই পরীক্ষা করা হয়।“ পাল্টা শ্যামলবাবুর প্রশ্ন, “ওনার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে মরদেহ দানের ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার কোনও প্রয়োজন নেই। এছাড়াও বিশেষ ক্ষেত্রে মৃতদেহ থেকেও লালারস নিয়ে করোনা পরীক্ষা করিয়ে মরদেহ দান করার ব্যবস্থা করা হয়।“
শ্যামলবাবু এই প্রতিবেদককে জানান, “প্রসঙ্গত সোমবারই বিরাটির সুমিতা সেনগুপ্তর মরদেহ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে দান করা হয়। এই ক্ষেত্রে তাঁর মরদেহ থেকে লালারস নিয়েই করোনা পরীক্ষা করার পরই দান করা হয়। এই কথা বলার পরও ডাঃ শিল্পী ঘটক নিপার মরদেহ থেকে লালারস নিয়ে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেননি।
এই ধরণের ঘটনা মরণোত্তর দেহদান আন্দোলনকে ব্যহত করবে। তবুও এইসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার মধ্য দিয়েই আমাদের এগোতে হবে।“

