সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৬ সেপ্টেম্বর: রাজ্য সরকার প্ৰদত্ত পুজো অনুদান থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাঁকুড়ার মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্টাফ কলোনির সার্বজনীন দুর্গোৎসব পুজা কমিটি। রাজ্যজুড়ে পুজো কমিটিগুলি ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান পেলেও এই অনুদানের অর্থ মিলবে না জেনে হতাশ কলোনীর আবাসিকরা। পুনরায় তাদের পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়া হয় তার আবেদন জানিয়ে গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লক, পুলিশ প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির কাছে স্মারকলিপি ও পেশ করেছেন পুজো কমিটির কর্তারা। কিন্তু অনিশ্চিয়তার মধ্যে রয়েছেন তারা। পঞ্চায়েত সভাপতির অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি নিমাই মাজি।
পুজো কমিটির সম্পাদক প্রফুল্ল মাজি বলেন, আমাদের পুজো এবার ৩৩ বছরে পড়ল। মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের দুর্লভপুর এলাকায় এটাই প্রথম সার্বজনীন পুজো। ফি বছর নতুন থিম এলাকাবাসীকে আকর্ষণ করতো। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার শুরুর পর থেকেই আমরাও সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ পেয়ে এসেছি। গত বছর আচমকা আমাদের কমিটির অনুদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন বন্ধ করা হল তা আমরা আজও জানতে পারিনি।

পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা দুর্গাদাস মুখার্জি বলেন, পুজো কমিটি গুলিকে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে অনুদান অর্থের চেক দেওয়া হয়। গত বছর আমাদের চেক নেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। তারপর পরের দিন ফোন করে জানানো হয়, আমাদের চেকটিতে গোলমাল আছে। কয়েকদিন পর দেওয়া হবে। কিন্তু তারপর বহুবার গঙ্গাজলঘাঁটি থানা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সদুত্তর পাইনি।
কমিটির কোষাধ্যক্ষ মনসারাম মন্ডল বলেন, একসময় আমাদের পুজো গঙ্গাজলঘাঁটি থানার সেরা পুজোর পুরস্কার পেয়েছে। ধারাবাহিক ভাবে আমরা পুরস্কৃত হয়েছি পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে। আমাদের আবাসনের বাসিন্দার সংখ্যা কমে গেছে। সে কারণে চাঁদা আদায় বেশি হচ্ছে না। অনুদান পাচ্ছিলাম বলেই উৎসবের জৌলুস ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল। গতবছর হঠাৎ অনুদান বন্ধ হওয়ায় আবাসনের বাসিন্দারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এমটিপিএসের কর্মী ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকেও পুনরায় অনুদান চালু করার আবেদন জানানো হয়েছে।
ডিভিসি কর্মচারী সংঘের সম্পাদক অরিন্দম ব্যানার্জি, শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সুমন গোস্বামী, স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রঞ্জিত মন্ডল, বিএমএস’র সম্পাদক হারাধন মাজি বলেন, রাজ্যে নতুন নতুন পুজো কমিটি অনুদান পাচ্ছে। অথচ এত দিনের পুরানো পুজো এবং অনুদান পাওয়ার পর তা বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা হতাশ। এ বিষয়ে গঙ্গাজলঘাঁটি পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি নিমাই মাজি বলেন, এমটিপিএস স্টাফ কলোনী পুজো কমিটি যাতে আগের মতই অনুদান পায় সে ব্যপাৱে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকৰ্ষণ করা হবে।

