আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১১ মার্চ: বকেয়া বেতন ও বেতন বাড়ানোর দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল ভাটপাড়া
পৌরসভা। ভাটপাড়া পৌরসভার আরবান শ্রমিক ও অস্থায়ী শ্রমিকরা অভিযোগ করেন অর্জুন সিং ভাটপাড়া পৌরসভার পৌর প্রধান থাকাকালীন বেশ কিছু মাসের বেতন আটকে যায় আর সেই বেতন পাওয়ার জন্য বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকরা।
এই আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, “প্রায় চার মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছে না আমাদের মিলের শ্রমিকরা। বেতনের সময় হলেই পৌরসভার তরফ থেকে জানানো হয় সমস্ত টাকাই দিয়ে দেওয়া হবে কিন্তু তাও চার মাসের বেতন মেলেনি। তাই তারা আজ সমস্ত কাজ বন্ধ রেখে পৌরসভার ওয়ার্কশপের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তারা বেতন না পেলে পৌরসভা অচল করে দেবে এমনটাই হুমকিও দেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা বলেন, “আমরা দীর্ঘ দিন ধরে ১৫৭ টাকা বেতন কাজ করছি। আমরা কত ময়লাতে নেমে কাজ করি। অথচ আমাদের বেতন বাড়ানো হয় না। আমাদের সংসার চলছে না এই বেতনে। তাছাড়া সামনে হলি আছে তাই আমরা চাই আমাদের আগের বকেয়াগুলো মিটিয়ে দেওয়া হোক।”

এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন ভাটপাড়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত পৌরপিতা সত্যেন রায়। তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে কর্মচারীরা। তার বক্তব্য, “আমরা এখনো শপথ নিইনি। শপথ নিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
সেই সঙ্গে সত্যেন রায় পাল্টা অভিযোগ করেন, শ্রমিকরা কারোর কথায় এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। না হলে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতেন না। আর এই কথা শ্রমিকদের সামনে বলতেই শ্রমিকদের সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়েন সত্যেনবাবু। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এরপর ভাটপাড়া পৌরসভার আরবান এবং ক্যাজুয়াল শ্রমিকরা এবার ভাটপাড়া পৌরসভার ভিতরে ঢুকে পৌরসভার গেটের সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে আরম্ভ করেন। তারা গেটের সামনে বসে দাবি করতে থাকেন তাদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে, পাশাপাশি তাদের আগের বকেয়া টাকা রয়েছে তা দিয়ে দিতে হবে।
এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে আসেন পৌরসভার আধিকারিকরা। তারা শ্রমিকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এরপর ভাটপাড়া পৌর সভার প্রাক্তন পৌর প্রশাসক গোপাল রাউত আসেন পৌরসভার বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের সাথে কথা বলতে। এদিন তিনি বলেন যে, “আমি প্রশাসক থাকা কালে কোনো মাসে কোনো শ্রমিকের বেতন বাকি পড়েনি। আমি নিয়ম মত বেতন দিতাম। তাছাড়া বেতন বৃদ্ধি করা এখন সম্ভব হবে না। এই পৌরসভা অনেক বড় পৌরসভা। এখানে কর্মী সংখ্যা বেশি। তাই ৩০ টাকা করে বাড়ালেও এত শ্রমিকের বেতন বাড়ানো এই মুহূর্তে সম্ভব না। আর যে বেতন বাকি আছে বলা হচ্ছে সেটা অনেক আগের সময়কার বকেয়া। অর্জুন সিং ও তার ভাইপো সৌরভ সিং পৌর প্রধান থাকা কালে এই বেতন বাকি ছিল। আমি যত দিন ছিলাম তত দিন কারোর বেতন বাকি যায়নি। তবে হলির আগে বেতন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নতুন বোর্ড গঠন না হলে বেতন দেওয়া সমস্যার বিষয়।”
এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেন যে নতুন বোর্ড গঠন হওয়ার কিছু দিনের মধ্যে বাকি বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে। সেই আশ্বাসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ আন্দোলন তুলে নেয়।

