করোনার মারাত্মক স্ট্রেন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে রাজ্যেও, ৫০ শতাংশই সংক্রমিত এই স্ট্রেনে

আমাদের ভারত, ২৬ জুন: দেশে ডেল্টা প্লাসের আক্রমণের সংখ্যা নিত্যদিন বেড়ে চলেছে। এর ফলে দেশে তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলেও মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে শুক্রবার কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে দেশের যে ৮ টি রাজ্যে মোট সংক্রমণের ৫০ শতাংশের বেশি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল পশ্চিমবঙ্গ। দেশে সংক্রমণের ৯০ শতাংশই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমিত বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র। এখনও পর্যন্ত ৪৫ হাজারের বেশি নমুনায় ৫১ জন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের নতুন মিউট্যান্ট ডেল্টা প্লাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর মিলেছে দেশের ১২ রাজ্যে। যার জেরে উদ্বেগ বেড়েছে রাজ্যের চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

গত বুধবার রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ আর করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন ডেল্টা প্লাস নিয়ে গভীর চিন্তা প্রকাশ করেছিল সরকারের নতুন বিশেষজ্ঞ কমিটি। তৃতীয় ঢেউয়ের আগাম প্রস্তুতির পরিকল্পনাও করেছে এই কমিটি। ইতিমধ্যেই রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণও বাড়ছে। তারই মধ্যে কেন্দ্রের এই ঘোষণা কার্যত মাথাব্যাথার কারণ হয়েছে গোটা বঙ্গবাসীর। সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যে ২১ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৫৩ টি নমুনাতে ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্নের ( ভিওসি) তালিকাভুক্ত স্ট্রেন পাওয়া গেছে যার মধ্যে ১ হাজার ৩৯৭ টি ডেল্টা স্ট্রেন। এর মধ্যে চার জন বিদেশ থেকে এসেছেন কিন্তু বাকিরা রাজ্যের স্থানীয় বাসিন্দা বলেই জানা গেছে।

অন্য দিকে, ডেল্টা স্ট্রেন ঘরানার ‘ডেল্টা প্লাসের’ তালিকায় যে ১০ টি রাজ্য রয়েছে তার মধ্যে মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। মহারাষ্ট্রে প্রায় ২২ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাছাড়াও তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, কেরলা, পাঞ্জাব, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, রাজস্থান,জম্মু-কাশ্মির হরিয়ানা এবং কর্নাটকেও পাওয়া গেছে ডেল্টা প্লাস আক্রান্ত রোগী।

ন্যাশনাল সেন্টার অফ ডিজিজ কন্ট্রোলের ডিরেক্টর সুজিত সিং জানিয়েছেন, দেশের ৩৫ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করোনা ভাইরাসের মিউট্যান্ট স্ট্রেন পাওয়া গেছে, যে গুলিকে ভিওসি-র তালিকায় রেখেছে হু। তালিকায় আছে আলফা, বিটা, গামা ডেল্টা। তার মধ্যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী এবং মারাত্মক বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। ডেল্টা স্ট্রেনেরই অতিরিক্ত মিউট্যান্ট হল ডেল্টা প্লাস। ডেল্টার পর দেশে ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণের ক্রমশ বৃদ্ধির আশঙ্কায় উদ্বেগ বেড়েছে দেশবাসীর।
তিনি আরও বলেন যে, গত মে মাসে ভিওসি-র বিভিন্ন স্ট্রেনে আক্রান্ত ছিল মোট সংক্রমণের ১০.৩১ শতাংশ, জুন মাসে যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৫১ শতাংশে। কাজেই বিশেষ করে ডেল্টা নমুনা পাওয়া রাজ্য গুলিকে আলাদা ভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। করোনা নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্লাস্টার বানিয়ে কনটেনমেন্ট জোন বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এক্ষেত্রে, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)এর ডিরেক্টর বলরাম ভার্গবের দাবি, দেশে পাওয়া ভিওসি-র স্ট্রেন গুলির বিরুদ্ধে ভারতীয় প্রতিষেধক কোভিসিল্ড এবং কোভ্যাক্সিন যথেষ্ট কার্যকর। ডেল্টা স্ট্রেনের ডেল্টা প্লাস মিউট্যান্টের ওপর এ নিয়ে আলাদা করে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই জানা যাবে প্রতিষেধক গুলি এই নতুন মিউট্যান্টের ওপর কতটা কার্যকরী হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *