শিলিগুড়িকে জেলা করার দাবিতে মিছিল দার্জিলিং জেলা কংগ্রেসের

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ৪ আগস্ট: শিলিগুড়িকে জেলা করার দাবিতে বৃহস্পতিবার দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস শহরে একটি মিছিল বের করে। সভাপতি শংকর মালাকার বলেন, “শিলিগুড়ি তৃণমূলকে পুরনিগম ও মহকুমা পরিষদ দিয়েছে। তারপরেও শিলিগুড়িকে বঞ্চিত করা উচিত হয়নি। দ্রুত শিলিগুড়িকে জেলা করার দাবি জানাচ্ছি।” একই দাবি করেছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। তিনি বলেন, “শিলিগুড়ির ১৪টি ওয়ার্ড জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে। তাই শিলিগুড়িকে দ্রুত জেলা করা প্রয়োজন।”

আবার বামেদের পক্ষে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “জেলা করার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তৃণমূল রাজনৈতিক কারণে জেলা করে। তাই একটি বিধানসভা নিয়ে কালিম্পংকে জেলা ঘোষণা করেছে।”

যদিও পালটা দিলেন জেলা তৃণমূল মুখপাত্র বেদব্রত দত্ত। তিনি বলেন, “সময়মত মুখ্যমন্ত্রী সব করে দেবে। উনি শিলিগুড়ি নিয়ে সবসময় চিন্তা করেন।”

শিলিগুড়ি পুরনিগমের অধীনে ৪৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে ১৪টি ওয়ার্ড জলপাইগুড়ি জেলায় ও বাকি ৩৩টি ওয়ার্ড দার্জিলিং জেলায়। যারা জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে থাকেন। তাদের যে কোনও রকম প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য ছুটে যেতে হয় জলপাইগুড়ি জেলায়। তাই তাদের জন্যই মূলত শিলিগুড়িকে জেলা করার দাবি জানান শংকর মালাকার। পাশাপাশি চোপড়াকেও শিলিগুড়ির অধীনে নিয়ে আসার দাবি করেন। এমনকি জেলার দাবিতে মিছিলও বের করে কংগ্রেস। মিছিল শেষে তিনি বলেন, “সুন্দরবন নতুন জেলা হওয়ায় স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু বাকি জেলাগুলো রাজনৈতিক কারণে করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কাজকর্মের সুবিধার জন্য শিলিগুড়িকে জেলা করা উচিত ছিল।”

অন্যদিকে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও একইভাবে অভিযোগ করে বলেন, “এই সময় মুখ্যমন্ত্রী নতুন জেলা করেছেন রাজনৈতিক স্বার্থে। নাহলে শিলিগুড়ির মত গুরুত্বপূর্ণ শহরের প্রশাসনিক কাজের সমস্যা মেটাতে তিনি জেলা ঘোষণা করতেন। কিন্তু উত্তরবঙ্গ বরাবর বঞ্চিত।”

এছাড়া বামেদের পক্ষে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য জেলা বাড়ানোর প্রয়োজন। কিন্তু কখনই তা যেনো রাজনৈতিক স্বার্থে না হয়। আমার মনে হয় জিটিএকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করে শিলিগুড়ি মহকুমা নিয়ে একটা জেলা করা উচিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *