সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৮ আগস্ট: পোষ্ট মাষ্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হলেন গ্রাহকরা। ঝালদা শহর সংলগ্ন পাটঝালদা গ্রামের একটি শাখা ডাকা ঘরের ঘটনা। পোষ্ট অফিসের সামনে আমানতকারীরা তাঁদের টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান।
বিক্ষোভরত আমানতকারী মণিদীপা ব্যানার্জি, মুক্তা রায়, কিশোর রায়, ছবি কুইরি ও প্রবীর কুইরি জানান, ওই ডাকঘরে তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে পোষ্ট মাষ্টার উধাও হয়ে গিয়েছেন। বেশ কিছুদিন থেকে ওই ডাকঘরে নিজেদের আমানতের টাকা তুলতে গেলে তাঁদের আজ নয় কাল বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকার বেশ কিছু মানুষের সন্দেহ হওয়ায় তারা ঝালদা উপ ডাকঘরে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তাঁদের টাকা সরকারি ভাবে জমাই পড়েনি। ফলে হতাশ হয়ে পড়েন ওই আমানতকারীরা।

এলাকার বাসিন্দারা এই বিষয়ে পাটঝালদার ওই শাখা ডাকঘরের আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সুরাহা হয়নি। আজ এলাকার আমানতকারীরা হাতে জমা করার নথি নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁরা জানান, ওই ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার সম্যক ভট্টাচার্য বিগত দুদিন ধরে পোস্ট অফিসে আসেননি। তিনি তাঁদের টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। এর পিছনে আরও কয়েকজন আছেন। কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা চাই আমাদের টাকা ফেরত দিক পোষ্ট মাস্টার। বিষয়টি তদন্ত হোক।
উধাও হওয়া পোষ্ট মাষ্টারের কাকা তীর্থসুনীল ভট্টাচার্য বলেন, “ভাইপো দুদিন ধরে নিখোঁজ। বিষয়টি নিয়ে
জিআরপি’তে অভিযোগ করেছি। কারণ স্টেশনে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি পাওয়া যায়।”

টাকা তছরুপ হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে জমি বিক্রি করে তা মিটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি। তিনি এটাও বলেন যে, “ভাইপো নিখোঁজ, এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ভাইপো ওই টাকা কী করেছে বুঝতে পারছি না।
ঝালদা উপ ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মধু মঙ্গল দাস জানান, বিষয়টি তাঁর কানে এসেছে। তিনি বলেন, “বেশ কিছু আমানতকারীদের সাথে প্রতারণা করেছেন ওই শাখার ভারপ্রাপ্ত পোষ্ট মাষ্টার। বিষয়টি জেলা পরিদর্শককে জানানো হয়েছে।”
“যদি এরকম কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।” বলেন, ঝালদা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সেক সুলেমান।

