আমাদের ভারত, ৯ জানুয়ারি:প্রতিদিনই করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখের গন্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। দেশজুড়ে যে রাজ্যগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি তাদের মধ্যে অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি আতঙ্ক তৈরি করার মতোই। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজারের গন্ডি পেরিয়েছে। তবে আরও যে তথ্য ভয় দেখাচ্ছে তাহলো, তথ্য বলছে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যায় দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজারেরও বেশি। সারাদেশে মোট সক্রিয় আক্রান্তের মধ্যে১০.৮৮ শতাংশ রোগী শুধু রয়েছে এই রাজ্যেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ৫১ হাজার ৩৮৪ জন করোনার সঙ্গে লড়ছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগটাই কলকাতার বাসিন্দা।
গত সাত দিনে রাজ্যে করোনা আক্রান্তের হার বেড়েছে ১৯.৬৮% যেটা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। দু সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে দাবানলের মত করোনা সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এর কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে বড়দিন ও নতুন বছরের উৎসব পালন। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করেই বড়দিনে বর্ষবরণের আনন্দে মেতেছে রাজ্যবাসী। আর তাতেই এই সংক্রমণ বেলাগাম হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী গত দুই সপ্তাহে কলকাতায় সংক্রমণ বেড়েছে ৬৯গুণ। ২৩ ডিসেম্বর কলকাতায় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৭৮। আর ২৮ জানুয়ারি সেটা হয়েছে ১৮ হাজার ৪০২। ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭।
সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা নিরিখে প্রথমেই রয়েছে মহারাষ্ট্র। এখানে করোনার দুটি ঢেউয়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। আক্রান্তের সংখ্যা হোক কিংবা মৃতের সংখ্যা দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছিল মহারাষ্ট্র। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আগেই তৎপর হয়েছিল ঠাকরে সরকার। স্কুল-কলেজ জমায়েত সব বন্ধ করা হয়েছিল রাজ্যে। তা সত্বেও মহারাষ্ট্রের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজারেরও বেশি। ওমিক্রন আক্রান্ত হাজারের উপরে। পাশাপাশি সক্রিয় আক্রান্তের নিরিখে দেশে মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জন সক্রিয় আক্রান্ত রয়েছে সেখানে বর্তমানে।

