রাজেন রায়, কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে লাশের রাজনীতি খুব একটা পুরনো নয়। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় থেকেই একের পর এক আন্দোলনে লাশ রাজনীতির সাক্ষী রাজ্যবাসী। ভবানীপুর উপ নির্বাচনের আগে সেই ধারাই যেন ফিরিয়ে আনল বিজেপি। মগরাহাটের বিজেপি নেতার মরদেহ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে রেখে প্রবল বিক্ষোভ বঙ্গ বিজেপি নেতাদের। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে ভবানীপুরের রাস্তায় এই বিক্ষোভে রীতিমত চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে।
রাস্তার উপর মৃত বিজেপি নেতার দেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কালীঘাটে। বিক্ষোভ করতে করতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে এগিয়ে যান বিজেপি নেতারা।

আজ মগরাহাট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মানস সাহার মৃতদেহ নিয়ে বিজেপি অফিস থেকে সোজা ভবানীপুরে চলে যান বালুরঘাটের সাংসদ তথা নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল প্রমুখ।

এসপ্ল্যানেড ছাড়িয়ে ভবানীপুর হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মৃত বিজেপি নেতার দেহ নিয়ে উপস্থিত হন সুকান্ত মজুমদাররা। প্রবল বিক্ষোভে থমকে যায় রাস্তা। প্রবল যানজট শুরু হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। সেখানে ফের একপ্রস্থ ঝামেলা শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে। পুলিশ বাধা দেওয়ায় রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান সুকান্তবাবু। বেশ কিছুক্ষণ ধরে ঝামেলা চলার পর মৃত বিজেপি নেতার দেহ নিয়ে দাহকার্যের জন্য ক্যাওড়াতলা রওনা দেন নেতারা।

উল্লেখ্য, একুশের ভোট গণনার দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন মগরাহাটের বিজেপি প্রার্থী মানস সাহা। তারপর থেকেই শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। তার পর গতকাল হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিজেপির মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের প্রার্থী মানস সাহা। বিজেপি নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজ্যের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে সরব হন সুকান্ত মজুমদাররা।


