সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩১ মার্চ: রাস্তা অবরোধ এবং পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিজেপি নেতার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় ছাতনায়। একটি পুকুর কাটাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবং পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জলের দাবিতে আজ সকাল থেকে ছাতনায় বাঁকুড়া পুরুলিয়া ৬০-এ জাতীয় সড়ক অবরোধের ডাক দেয় বিজেপি। এই অবরোধে নেতৃত্ব দেন দলের প্রবীণ নেতা তথা বিজেপির প্রাক্তন বাঁকুড়া জেলা সহ-সভাপতি জীবন চক্রবর্তী। তিনি পুলিশকে আক্রমন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বসেন। তাতে তিনি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তাকে সহ ৩ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, পুলিশ এই অবরোধ তুলতে গেলে অবরোধকারি বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ছিলেন ছাতনা থানার আইসি। তিনিও অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য বিজেপি নেতা কর্মীদের অনুরোধ করেন। কিন্তু নেতারা তা মানতে চাননি। পুলিশ জোর জবরদস্তি করায় একটা সময় পুলিশ বিজেপি ধস্তাধস্তিও শুরু হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে প্রবীণ বিজেপি নেতা জীবন চক্রবর্তী মাইক হাতে নিয়ে বলেন, পুলিশ তৃণমূলের দলদাস। আইসি টাকা খেয়ে বাঁকাপাড়ার পুকুর খননে দুর্নীতি করতে সাহায্য করেছে। ওনাকে ন্যাংটো করে ছাড়ব। অভিযোগ, তিনি আরও অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেন। তখনও পুলিশ সংযত ভাবে তাদের অবরোধস্থল থেকে সরে যেতে অনুরোধ করে। এই অবরোধের কারণে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। দূরপাল্লার বাসযাত্রীরা গরমে নাজেহাল হতে থাকেন। এরপর পুলিশ জীবন চক্রবর্তী সহ ৩ জনকে থানায় নিয়ে গেলে অবরোধ উঠে যায়। যান চলাচল স্বাভাবিকও হয়।
জীবন চক্রবর্তী আইসি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে সাফাই দেন। তবে তিনি পোশাক খুলে ন্যাংটো করার কথা বলেননি। এটার অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তার বক্তব্য, ছাতনার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাকে প্রতিবাদ জানানোর কথা বলে আসছিলেন। সেই কারণে এই পথ অবরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। এই অবরোধ তুলতে এসে পুলিশ তাদের সঙ্গে অমানবিক ব্যবহার করে।
তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য মাধব ব্যানার্জি বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য অশোক বিদ জানিয়েছেন, ছাতনার এদিনের এই কর্মসূচি দলীয় ছিল না। এই ধরনের মন্তব্য বিজেপির সংস্কৃতি নয় বলেও দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি পুলিশ।

