আমাদের ভারত, গলসি, ২ জুলাই:
‘দল চালাতে গেলে টাকা লাগে, তবে, সেই টাকা নেওয়া কাটমানি নয়,’ এই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন গলসির গোহগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিঙ্কু ঘোষ। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, আমার কাছে এই ধরনের অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পূর্ব বর্ধমানের গোহগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত। বেশ কিছুদিন লকডাউন সহ নানা কারণে পঞ্চায়েতের টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ আছে। ফলে রাস্তাঘাট, নর্দমা, পুকুরঘাট সংস্কার ও তৈরির কাজ ব্যহত হচ্ছে।তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের মতে স্বচ্ছভাবে অনলাইনের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া করা হোক। তবে আরএকটি অংশ চাইছে যাতে অনলাইন নয়, অফলাইনেই টেন্ডার ডাকা হোক। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গ্রামপ্রধান রিঙ্কু ঘোষ বলেন, ‘আমাকে বিডিও পরামর্শ দিয়েছেন অফলাইনে টেন্ডার করা হলে কাজ তাড়াতাড়ি হবে।’
পঞ্চায়েত প্রধান একথা বললেও গ্রামের উপপ্রধান বিমল ভক্ত বলেন, ‘আমরা চাই টেন্ডার অনলাইনে করা হোক। কিন্তু প্রধান জানিয়েছেন তাকে নাকি বিডিও পরামর্শ দিয়েছেন অফলাইনে টেন্ডার করার জন্য। পরে অবশ্য প্রধান কথা পালটে বলেন বিডিও নয়, তাঁকে পার্টির অন্য কর্মীরা পরামর্শ দিয়েছেন অফলাইনে টেন্ডার করার জন্য।’ উপপ্রধানের দাবি, ‘আর অফলাইনের টেন্ডার করতে পারলেই বেশ কিছু পারসেন্টেজ অনেকেরই পকেটে ঢুকে যাবে। এতে যেমন সমস্যা বাড়বে তেমনি সরকারের সুনাম নষ্ট হবে।’
পঞ্চায়েত প্রধান রিঙ্কু ঘোষ বলেন, ‘ দল চালাতে গেলে তো একটা খরচ আছে। তাই দল চালাতে টাকা লাগে। পার্টি ফান্ড আছে। পার্টি ফান্ডে অনেক কিছু দরকার হয়। আর এটাতো কাটমানি নয়, কাটমানি হচ্ছে কেউ কোনও ঘর পেয়েছে সেখান থেকে যদি কুড়ি তিরিশ হাজার টাকা নেওয়া হয় সেই টাকা। কিন্তু এটা কাটমানি নয়। এটা দল চালাতে গেলে লাগে কিন্তু কিভাবে সেটা নেওয়া হয় আমি জানি না। ‘
বিজেপির বর্ধমানের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে বারবার সরব হয়েছিলাম। দেরিতে হলেও সেটা এখন বলছে খোদ শাসক দলের নেতা নেত্রীরাই। বিজেপি যে মিথ্যে কোনও অভিযোগ করেনি সেটা মানুষ বুঝতে পারছে।’

এ বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘যারাই টাকা নেবে এবং তারা যদি ধরা পড়লে তাহলে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা আছে পাবে। এটা জেলা নেতৃত্বই করতে পারে। আর যদি না করে আমার কাছে অভিযোগ আসে তাহলে আমি ব্যবস্থা নেবো। কাটমানি কোনওদিনই দলের দরকার হয় না আর দল নেয়ও না।’

