বয়ালের বুথে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠির অভিযোগ ভুল, কোনও প্রমান নেই, মমতার ভুমিকা নিয়ে পাল্টা কড়া চিঠি কমিশনের

আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বয়ালের বুথে বসে অভিযোগ জানিয়ে নিজে হাতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে নির্বাচন কমিশনের নজরে এবার। রবিবার একটি চিঠিতে কমিশন বলেছে নন্দীগ্রামের ভোট নিয়ে মমতার জানানো অভিযোগ তথ্যগতভাবে ভুল। শুধু তাই নয় মমতার আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও চিঠিতে জানিয়েছে কমিশন।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ভুল, অভিযোগের কোনও প্রমাণ নেই। বয়ালের বুথের মিনিটস ধরে এই জবাব দিল নির্বাচন কমিশন। সেদিন বুথে নিরাপত্তায় থাকা বিএসএফ জওয়ানদের দুর্ব্যবহারের কোনও প্রমাণও মেলেনি। তাদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ঢুকতে না দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা একদম সত্যি নয়। বন্দুক দেখিয়ে দুষ্কৃতীদের বুথ দখলেরও কোনও অভিযোগ নেই। ‌নির্বাচন কমিশন মমতাকে স্পষ্ট জানিয়েছে, “আপনার লেখা চিঠিতে করা অভিযোগ তথ্যগতভাবে ভুল। এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।”

১ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোট ছিল। ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে কমিশনকে নিজে হাতে চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কমিশন মমতার এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে বয়ালের বুথের তৃণমূল নেত্রীর নির্বাচনী আচরণ বিধি ভেঙেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের কথায় একজন প্রার্থী যিনি কিনা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও তিনি ভোটারদের এভাবে ভুল পথে চালিত করে গিয়েছেন। এর থেকে বড় বিধি বহির্ভূত কাজ কি হতে পারে? নন্দীগ্রামে ভোট চলাকালীন বয়ালের বুথে মমতার আচরণ প্রসঙ্গে কমিশন বলেছে, এতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় অন্য রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলাও বিঘ্নিত হতে পারত।

রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশন জানিয়েছে, আদর্শ আচরণ বিধি এবং জনপ্রতিনিধি আইনে এই ব্যাপারে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা।

যদিও কমিশনের এই বক্তব্যকে পক্ষপাতিত্ব বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেছেন,নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব খতিয়ে দেখছে। তবে যা ঘটেছে তা সবাই দেখেছে। ১৪৪ ধারা জারি হওয়া সত্বেও মেলার মাঠের মতো ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিল বিজেপির সমর্থকরা। সেটা কমিশন কিভাবে অস্বীকার করতে পারে? কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে কুনাল বলেন, আমরা এর আগেও বলেছি কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। এখানে সেটা স্পষ্ট হচ্ছে।

নন্দীগ্রাম ভোট প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ ছিল চূড়ান্ত অসভ্যতা হয়েছে নন্দীগ্রামে। যিনি এখানে বিজেপির প্রার্থী তাঁর নেতৃত্বে রাতে সেখানে দাপিয়ে বেড়িয়েছে দুষ্কৃতীরা। চিটিংবাজি হয়েছে ভোটে। আমরা ৬৩টা অভিযোগ করেছি।

বিজেপি রাজ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল যদি কমিশনকে পক্ষপাত দুষ্ট বলে থাকে তাহলে বুঝতে হবে কমিশনের উপর তাদের ভরসা নেই। তার মানে সংবিধানেও ভরসা নেই তাদের। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও ভরসা নেই তাদের। নির্বাচন কমিশন কি বলেছে তা নিয়ে আমরা কথা বলবো না তবে মানুষ কি বলে সেটাই দেখার। আমার মনে হয় মানুষ যা বলার তা নন্দীগ্রামে বলে দিয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *