পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর,
১৪ আগস্ট: ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশাত্মবোধ ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার সকালে মেদিনীপুর শহরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা যাত্রা। জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা ও স্বাধীনতার চেতনাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মেদিনীপুর শহরের জেলাশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে এদিন সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরঙ্গা যাত্রার সূচনা হয়। জাতীয় পতাকায় সুসজ্জিত এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজীন কৃষ্ণা। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা।
জেলাশাসকের দপ্তর থেকে শুরু হওয়া সুসজ্জিত তিরঙ্গা যাত্রাটি মেদিনীপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ রিং রোড পরিক্রমা করে। শোভাযাত্রায় জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দেশাত্মবোধক আবহে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত পরিক্রমা করার পর ফের জেলাশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতিতে তিরঙ্গা যাত্রা আরও বর্ণময় হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার ইতিহাস, জাতীয় পতাকার মর্যাদা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

এদিনের কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবার বিষয়টিকেও যুক্ত করা হয়। আয়ুষ্মান সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের সেবাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও তাঁরা নানা ধরনের পরিষেবা ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
একদিকে জাতীয় পতাকা হাতে স্বাধীনতার আবেগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার বার্তা, এই দুইয়ের সমন্বয়ে এদিনের কর্মসূচি মেদিনীপুর শহরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে ফুটে ওঠে দেশপ্রেম, ঐক্য ও জনসেবার এক সুন্দর ছবি।
স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষের প্রাক্কালে এমন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও গভীর হবে বলেই মনে করছে জেলা প্রশাসন।

