নজিরবিহীন!! বিধানসভায় বিধায়কদের মধ্যে সংঘর্ষ, অভিযোগ মারামারিতে নাক ফেটেছে অসিত মজুমদারের, আহত ৮-১০ বিজেপি বিধায়ক

আমাদের ভারত, ২৮ মার্চ:বগটুই কাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তাল হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা আর তখনই তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি বিধায়করা। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, চড়, কিল, ঘুষি সবকিছুই চলেছে।

বিজেপির পরিষদীয় দলনেতার জামা ছিড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চশমা ভেঙ্গে যায় এক বিধায়কের। চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের নাক ফেটেছে, তাকে এসএসকেএম এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অসিতবাবুর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারা তিনি প্রহৃত হয়েছেন। আবার বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ, তাদের ৮-১০ জন বিধায়ক আহত।
বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, আলোচনার সময় সাদা পোশাকে বিধানসভার ভেতরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সিভিল ড্রেসে পুলিশি বিজেপি বিধায়কদের মেরেছে।

অন্যদিকে বিধানসভার নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গেও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছে পদ্ম শিবিরের বিধায়করা বলে অভিযোগ। বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিধানসভা ভাঙ্গচুরের অভিযোগ উঠেছে। সেক্রেটারিয়েট টেবিলের কাগজপত্র কেড়ে নিতে চায় বিজেপি বিধায়করা। বহু বিক্ষোভ কর্মসূচির সাক্ষী থেকেছে বিধানসভা। কিন্তু আজকের ঘটনা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

অধিবেশন শুরু হতেই বক্তব্য রাখতে ওঠেন বিরোধী দলনেতা। পানিহাটি, ঝালদা, রামপুরহাট কাণ্ড নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভায় অন্তত ২ ঘণ্টা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি। সরকার বিধানসভাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর কথা শেষ না হতেই কার্যত তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে স্পিকার বলেন, “আপনার নির্দিষ্ট সময় ছিল সেই সময় আপনি আলোচনা করতে পারতেন, কিন্তু আপনি কোনওদিন তা করেননি, আপনি হাউসে এসে কথা বলেননি, আপনি হাউসে উপস্থিত থেকেও আইনের পথে না গিয়ে প্রতিদিন গন্ডগোল বিক্ষোভ অশান্তি করেছেন।” স্পিকার আরো বলেন, “আপনারা অধিবেশন চলতে দেননি, বিধানসভা শুধু গন্ডগোল করার জায়গা নয়। “স্পিকারের এই মন্তব্য পরেই ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপির বিধায়করা। তারপরই ওয়েলে নেমে আসে তৃণমূলের বিধায়করাও। আর দুপক্ষের বাদানুবাদ সংঘর্ষের আকার ধারণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *