আমাদের ভারত, ২৩ মে: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পশ্চিমবঙ্গ একেবারে “ছুটির রাজ্য” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। একের পর এক উৎসবে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করে দিতেন মুখ্যমন্ত্রী। শনি ও রবিবার উৎসব পড়লে সোমবারেও অবধারিত ছুটি। কিন্তু এই বিষয়ে একেবারে বড়সড় বদল আনলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। দিলেন কড়া বার্তা।
মে মাসের শেষের দিকেই রয়েছে বকরি ইদ। বিগত ১৫ বছর ধরে এই ইদ উপলক্ষে রাজ্যে দু’দিন সরকারি ছুটি দেওয়ার রীতি চালু রেখেছিল তৃণমূল সরকার। বছরের শুরুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে গিয়েছিলেন যে বকরি ইদ উপলক্ষে ২৬- ২৭ মে দুদিন রাজ্যজুড়ে সরকারি ছুটি থাকবে। কিন্তু নবান্ন থেকে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই ছুটি এক ধাক্কায় কমিয়ে দিল নতুন সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৬ বা ২৭ মে নয়, আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার ইদের জন্য স্রেফ একদিন সরকারি ছুটি থাকবে।
প্রশাসনিক ও নবান্ন সূত্রে বলা হয়েছে, ইদের আসল নির্ঘন্ট অনুযায়ী এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করেই উৎসবের দিন নির্ধারিত হয়। ক্যালেন্ডারে আগের দিনক্ষণ বদলে নতুন করে বৃহস্পতিবার দিনটিকে ছুটির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
তবে অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি চাঁদ দেখার দিন বদলেই আটকে নেই। এর পেছনে রয়েছে নতুন সরকারের এক প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা। ঢালাও ছুটি দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের খুশি করার যে জনমোহিনী রাজনীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতেন, শুভেন্দু অধিকারী সেই পথে হাঁটতে নারাজ। শুরুতেই স্পষ্ট করে দিতে চাইলেন কাজের দিন কাজ করতে হবে, অতিরিক্ত ছুটির সংস্কৃতি আর চলবে না।
এদিকে ইদের ছুটি কমতেই এখন রাজ্য সরকারি মহলে সবচেয়ে বড় কৌতুহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাহলে কি এবার দুর্গাপূজোর ছুটিও কমবে? পুজোয় এত ছুটি চলছিল না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় দুর্গাপুজোয় কার্যত প্রায় দু’ সপ্তাহ ধরে সরকারি দপ্তর গুলিতে তালা ঝোলানোর বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তেন সাধারণ মানুষ। জরুরি প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে আদালতের কাজ, সব স্তব্ধ হয়ে যেত। এমনকি ক্ষমতা হারানোর আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে গিয়েছিলেন যে এবার পুজোয় টানা ১৩ দিন ছুটি পাবেন সরকারি কর্মচারীরা। তার সঙ্গে পুজো ও ছট পুজো মিলিয়ে অতিরিক্ত আরও সাত দিন ছুটি দেওয়া হবে। ভাইফোঁটার পর দিনেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু ইদের জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত ছুটি যখন তুলে নেওয়া হলে তখন পুজোয় টানা ১৩ দিন থেকে ২০ দিন অতিরিক্ত ছুটি দেওয়ার আর যৌক্তিকতা নিয়েও নতুন সরকার যে বিবেচনা করবে তা নিশ্চিত ভাবেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজ্যের কোনো বেসরকারি সংস্থা, কর্পোরেট ফ্যাক্টরি বা আইটি সেক্টরে পুজোয় চার থেকে পাঁচ দিনের বেশি ছুটি পাওয়া যায় না। আর রাজ্যে যদি সত্যি নতুন বিনিয়োগ আনতে হয় এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কর্মসংস্কৃতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে সরকারি কর্মচারীদের এই অতিরিক্ত ছুটির বহর কমাতেই হবে। শুভেন্দু অধিকারী সেই অপ্রিয় কিন্তু জরুরি পথেই হাঁটতে চলেছেন। শনিবারের ইদের ছুটি কমানোর বিজ্ঞপ্তি তারই ট্রেলার বলে মনে করা হচ্ছে।

