আমাদের ভারত, বনগাঁ, ১০ জুন:
নবিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিক্ষোভ-অবরোধে উত্তপ্ত হয়েছে হাওড়া। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা পর্যন্ত অবরোধ চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের পরেও অবরোধ ওঠেনি। শুক্রবার ফের রেল অবরোধ ও রাস্তা অবরোধ হয়েছে। উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। রাজ্যের এহেন পরিস্থিতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার কথায়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যটাকে জেএমবি আল-কায়েদার হাতে তুলে দিতে চাইছেন।
শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনায় গিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সেখানে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “ধর্মীয় কিছু উন্মাদ রাস্তায় নেমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার হাতে হাত দিয়ে বসে আছে। এত অপদার্থ সরকার পশ্চিমবঙ্গ আগে দেখেনি। ২০০–র উপর আসন নিয়ে গঠিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কিছু ধর্মীয় উন্মাদদের করজোড়ে বলছেন, আপনার এরকম করবেন না।” বঁনগায় দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, কয়েক বছর হাওড়া উলুবেড়িয়ায় সমস্যা ছিল না। কিন্তু সেখানে যখন বিজেপির পার্টি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তখন সিপিএম তৃণমূল বলেছিল ওটা তো বিজেপির পার্টি অফিস আমাদের কি। দেখা গেল সেই আগুন বিজেপির পার্টি অফিসে সীমাবদ্ধ থাকলো না। এখন সেই আগুন তাদের ঘরে ঢুকে পড়েছে।”
তাঁর কথায়, আমরা একটা বিকট পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমরা যে পুলিশের উপর ভরসা করে বসে থাকব সেই পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় হাতে হাত ধরে বসে আছে। আপনার আমার জীবন কে বাঁচাবে কেউ জানে না। ভগবান ভরসা”
সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, এখন যারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, রাজ্যে যখন বিজেপি সরকার আসবে তারা তখন বুলডোজারের ভয়ে কোথায় গিয়ে লুকায়, তাদের লুকানোর জায়গা থাকবে না। আমরা উত্তরপ্রদেশে দেখিয়ে দিয়েছি কিভাবে ঠান্ডা করতে হয়। আর এরাজ্যে আপনার আমার জীবনের কোনো গ্যারান্টি নেই।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার হাওড়ার ডোমজুড়ে দীর্ঘ সময় পথ অবরোধ হয়। রাস্তায় কুশপুতুল, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে কলকাতার একটা বড় অংশে। নাজেহাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এক ইমামকে দিয়ে আবেদন করানোর পরেও অবরোধ ওঠেনি। রাত এগারোটার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শুক্রবার ফের বিক্ষোভ শুরু হয়। শুক্রবার সকাল থেকে পাক সার্কাস, কলকাতা বন্দর এলাকার কাঁচ্চি রোডে অবরোধ হয়। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ের জামায়াতের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। বিভিন্ন জায়গায় বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভ-অবরোধে রণক্ষেত্র চেহারা নিয়েছে হাওড়ার উলুবেরিয়া। উলুবেড়িয়ার একাধিক চেকপোষ্টে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিক্ষোভকারীরা। জাতীয় সড়কে পুলিশের গাড়ি সহ একাধিক গাড়ি ভাঙ্গচুর করে আগুন লাগিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ভাঙ্গচুর চালানো হয়েছে মহকুমাশাসকের কার্যালয় ও পুলিশের কিয়স্কেও, হামলা হয়েছে থানাতেও।

