কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ মে: দীর্ঘ দেড় বছর পর মেদিনীপুর জেলায় পা রেখেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা ভোটের আগে আসলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কেটে গিয়েছে একটা বছর। শান্ত জঙ্গলমহলে আবারো দেখা দিয়েছে মাওবাদীদের লাল চোখ।
অবশেষে মেদিনীপুরে মঙ্গলবার পা রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হেলিকপ্টারে করে মেদিনীপুর কলেজ মাঠে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানায় পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক ড: রেশমি কমল, মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়া। সেখান থেকে সড়ক পথে কিছু দূরেই জেলা পরিষদে অবস্থিত প্রদ্যুৎ স্মৃতি ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকের যোগ দেন।
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় ও বিভিন্ন দপ্তরের সচিবরা। পাশাপাশি জেলার ১৩ জন বিধায়ক ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, মহাকুমা শাসক এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
মিটিং শুরু হতেই জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে ধমক দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি একাধিক দপ্তরের কাজেরও হিসেব-নিকেশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন ব্লকের বিডিওদের সাথে সরাসরি কথা বলে জানতে চান অভাব অভিযোগ। সেইসঙ্গে মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়ার সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথোপকথন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিনের প্রশাসনিক সভা থেকে, কৃষকরত্ন পুরস্কার দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শালবনিতে অবৈধভাবে কেটে ফেলা হচ্ছে জঙ্গলের গাছ, সে ব্যাপারেও পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জেলায় বেশ কয়েকটি অবৈধ বালি খাদান চলছে বলে অভিযোগ করেন সেইগুলো সঠিক পরিচালনার নির্দেশ দেন পুলিশকে।
প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান মেদিনীপুরের নবনির্মিত পশ্চিম মেদিনীপুর প্রেসক্লাবের দ্বারোদ্ঘাটনের জন্য। দীর্ঘদিনের দাবি মত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাংবাদিকদের ক্লাবের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে যান বিশ্রামের জন্য। এছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে জানা গিয়েছে।
আগামীকাল মেদিনীপুর কলেজ মাঠে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভা। জনসভা থেকে কি বার্তা দেন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাধারণ মানুষ।

