সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১২ জুন: পঞ্চায়েত অফিসের মধ্যেই নেশাগ্রস্ত প্রধান বেহুঁশ হয়ে লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন মেঝেতে। গতকাল ছাতনা থানার ঝুঞ্জকা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে এই ঘটনা জনসমক্ষে প্রকাশ হতেই নিন্দার ঝড় জেলা জুড়ে। প্রধানের কড়া শাস্তি, অপসারণ, দল থেকে বহিষ্কার সহ নানান দাবি উঠেছে। অনেকে আবার প্রতিটি পঞ্চায়েত অফিসে সিসিটিভি লাগানোর দাবি তুলেছেন।
পঞ্চায়েত প্রধানের এই কর্মকান্ডে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এটাই তৃণমূলের কালচার, কোথাও কলেজের ইউনিয়ন রুমে বিলাসবহুল ব্যবস্থায় অনৈতিক কাজ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। নেশাগ্রস্ত প্রধানের পঞ্চায়েত অফিসেই গড়াগড়ি যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷ কৌতুহলী জনতার ভিড় জমে যায়।
ছাতনা বিধানসভার ঝুঞ্জকা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেই নেশায় চুর প্রধান রামেশ্বর হেমব্রম। নাগরিক পরিষেবা দেওয়া তো দূরের কথা, নিজের চেয়ারে বসার মতো অবস্থাও নেই তার। এমনকি বেহুঁশ হয়ে লুটিয়ে পড়েন মেঝেতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয় সূূত্রে জানা যায় যে, ছাতনা বিধানসভার ঝুঞ্জকা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান রামেশ্বর হেমব্রম প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও নানা কাজে পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েছিলেন। এলাকার বাসিন্দারা প্রধানের অফিসে ঢুকতেই তাদের চক্ষু চড়কগাছ। তারা দেখেন, বেহুঁশ অবস্থায় দপ্তরের মেঝেয় শুয়ে রয়েছেন খোদ পঞ্চয়েত প্রধান। এখবর বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। প্রধানের কীর্তি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। অনেকেই আবার এই ঘটনা মোবাইলে ভিডিও করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে রামেশ্বরবাবু চেয়ারে বসার চেষ্টা করছেন কিন্তু নেশার জেরে এমন অবস্থা যে ঠিক করে বসতেও পারছেন না। একটা সময় পড়ে যান।
একজন জনপ্রতিনিধির এই অবস্থা দেখে নিন্দায় সরব হয়েছেন বাঁকুড়া জেলাবাসীরা। স্থানীয় বিজেপি নেতারা এই আচরণের তীব্র নিন্দা করে বলেন, পঞ্চায়েত অফিসগুলোকে এরা দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করেছিল। তাই পঞ্চায়েত কার্যালয়গুলিতেও সব রকম অনৈতিক কাজ চলত। তবে আর এসবের সঙ্গে আপোষ করা হবে না। স্থানীয় বাসিন্দারা পঞ্চায়েত অফিসে সিসিটিভি বসানোর দাবিও তুলেছেন।

