আমাদের ভারত, ১ ফেব্রুয়ারি:অরুণাচল প্রদেশে অপহৃত কিশোরের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে চিনা সেনা। কয়েকদিন আগেই দেশে ফিরেছেন ওই যুবক। দেশে ফিরে তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তিনি জানিয়েছেন, যা শুনলে শিউরে উঠছে মানুষ।
সোমবার সন্ধ্যায় অভিভাবকদের কাছে কিশোরকে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় স্থানীয় প্রশাসন। তখনই ১৭ বছরের মিরম তারনের বাবা-ছেলের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সকলকে জানান। তিনি জানিয়েছেন তার ছেলে লালফৌজের অত্যাচারে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি বলেন, ওর গায়ে পায়ে প্রচুর লাথি মারা হয়েছে। প্রচণ্ড মারধরের সঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে। প্রায় সারাক্ষণই হাতপিছনে মুড়ে বাধা ছিল ওর। কেবলমাত্র খাওয়া-দাওয়া বা অন্য প্রয়োজন হলে তবে খোলা হতো। খাবারও দেওয়া হতো খুবই সামান্য। শুধু মারধর করাই নয় মানসিক নির্যাতধ সইতে হয়েছে মিরামকে। কখনো দেওয়া হয়েছে খুনের হুমকি কখনো কানের কয়েক ইঞ্চিও দূরে স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের নল রেখে খালি করা হয়েছে পুরো ম্যাগাজিন। প্রচন্ড শব্দে কানে তালা লেগে গিয়েছে। বারুদের ঝলকানিতে ধাঁধিয়ে গিয়েছে। মিরামির বাবা জানিয়েছে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে তার ছেলে। তার শরীরে রয়েছে তিনি সেনার নীপিড়নের চিহ্ন। এর আগে ২০২০ সালে সেপ্টেম্বরেও অরুণাচল সীমান্তের ৫ গ্রামবাসীকে অপহরণ করে একই ভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল চিনা সেনা।
মিরম তারন নামে ওই ১৭ বছরের কিশোর দিন কয়েক আগে এক বন্ধুর সঙ্গে ভারত-চীন সীমান্তে একটি জঙ্গল এলাকায় আয়ুর্বেদিক গাছ ও পাখি শিকার করতে গিয়েছিল। তখনই চিনা সেনা তাকে অপহরণ করে। মিরমের বন্ধু জনি ইয়াইং অল্পের জন্য চিনা সেনার হাতে পড়েনি। পরে জনি বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানায়। স্থানীয় সাংসদ তাপির গাঁও একের পর এক টুইট করে এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি অনুরোধ করেন ভারতীয় এজেন্সিগুলো যাতে দ্রুত মিরমকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। কেন্দ্রের নির্দেশে তৎপর হয় ভারতীয় সেনা। চিনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আবেদন জানানো হয় কিশোরকে খুঁজে বের করে প্রটোকল অনুযায়ী যেনো তাকে ভারতে ফেরানো হয়। পরে ভারতীয় সেনার তরফে কিশোরের পরিচিতি ব্যক্তিগত তথ্য ছবি চিনকে দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ওই কিশোরকে ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেয় চিনা সেনা।

