BRICS, US, আমেরিকার দাদাগিরি রুখতে বিকল্প রাস্তা খুঁজল ব্রিকস! মার্কিন ডলারের একাধিপত্য কমাতে বড় পদক্ষেপ

আমাদের ভারত, ১২ সেপ্টেম্বর: শুল্ক অস্ত্রের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে শাসন করার চেষ্টা করে চলেছেন ট্রাম্প। শুল্কের পর তার অন্যতম অস্ত্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। মার্কিন বশ্যতা স্বীকার না করলেই যে কোনো দেশের উপর এই অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। চাপে ফেলে দেওয়া হচ্ছে যে কোনো দেশের অর্থনীতিকে। কিন্তু মনে করা হচ্ছে আমেরিকার এই দাদাগিরি রুখতে এবার বিকল্প রাস্তা খুঁজে নিল ব্রিকস।

ডলার নির্ভর বাণিজ্যের পরিবর্তে “দিল্লির ঘোষণা”য় বলা হয় আঞ্চলিক মুদ্রায় বাণিজ্যের বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিকসের দেশগুলি নিজ নিজ মুদ্রায় একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করবে। এই পদক্ষেপকে সরাসরি ডি ডলারাইজেশন না বলা হলেও, ডলারের কফিনের প্রথম পেরেক বলতে চাইছেন অনেকেই।

সম্মেলনে আলোচনার দ্বিতীয় দিনে ব্রিকস পেমেন্ট টাস্ক ফোর্সকে দ্রুত, সস্তা এবং নিরাপদ আন্তঃ সীমান্ত লেনদেন ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিজ নিজ দেশের মুদ্রায় বাণিজ্য এবং নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম যেমন ভারতের ইউপিআই; চীনের ইসিএন, ওয়াই; রাশিয়ার ডিজিটাল রুবেলকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, আলোচনায় রাশিয়া ও ইরান সরাসরি ডলার বর্জনের পক্ষে সওয়াল করলেও ভারতের অবস্থান ছিল, আমরা ডলারের বিরুদ্ধে নই। আমরা শুধু বিকল্প তৈরি করছি। তবে ভারতের এই পদক্ষেপও আমেরিকার ঘুম ছুটিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে মার্কিন ডলারের। যখনই কোনো দেশ ডলারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে তখনই নেমে এসেছে মার্কিন খাঁড়া। স্বাভাবিকভাবে ব্রিকসের এই পদক্ষেপ আমেরিকার চিন্তা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, নিজ নিজ মুদ্রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হলে ভীষণ রকম ভাবে উপকৃত হবে ভারত সহ অন্যান্য দেশ। এর ফলে লেনদেনের খরচ কমবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতীয় টাকার ভূমিকা বাড়বে। দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থায় এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক, ডিজিটাল কারেন্সির মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করলে আন্ত সীমান্ত লেনদেন আরো দ্রুত, সস্তা এবং সুরক্ষিত হবে।
মুদ্রার ওঠা- নামার সমস্যা থেকে ব্যবসায়ীরা রেহাই পাবেন। সর্বোপরি ডলারের আধিপত্য অনেকখানি কমবে।

গত বছর ব্রিকস সম্মেলনের পর ডিডলারাইজেশনের লক্ষ্যে কথা উঠেছিল। সেখানে ব্রিকস মুদ্রা চালুর বিষয়টি সামনে আসে। যার ফলে নড়েচড়ে বসে আমেরিকা। যদিও ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশ জানায়, ব্রিকস মুদ্রা নিয়ে কোনো আলোচনা এখনো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ভারতে আয়োজিত ব্রিকসে কোনো অভিন্ন মুদ্রার কথা বলা হয়নি। সরাসরি বদলানোর ডাকও দেওয়া হয়নি। ভারতের আপত্তি অনুসরণ করেছে বাকি দেশগুলিও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *