বগটুইয়ের মানুষ কি এতো শিক্ষিত! মামলার জবানবন্দি কেন ইংরেজিতে লেখা, প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট

আমাদের ভারত, ২৪ মার্চ:রামপুরহাট কান্ডকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে। বৃহস্পতিবার এই মামলার দ্বিতীয় দিনে শুনানিতে জমা পড়েছে কেস ডায়েরি। কিন্তু এই কেস ডাইরি ঘিরেই আদালত প্রশ্ন তোলে প্রথমেই। এছাড়াও এদিনের শুনানিতে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। সব পক্ষকেই এদিন বলতে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের থেকে বেশি সময় ধরে চলে শুনানি। শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় দান স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে এই মামলার রায় বা অর্ডার।

শুনানির শুরুতেই আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও সিসিটিভি লাগানো হয়নি। যেখানে তদন্ত চলছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করে দিয়েছেন। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে। শুনানির সময় নন্দীগ্রামে প্রসঙ্গ টেনে সওয়াল করেন আইনজীবী রবি শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন নন্দীগ্রামে গুলি চালনার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। বগটুইয়ের ঘটনাতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিক আদালত।

অন্যদিকে সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান ইতিমধ্যে কুড়ি জনকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাতে প্রধান বিচারপতি জানান সিবিআইকে এই মামলায় পার্টি করা হবে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চায় এখন অব্দি কটা সিসিটিভি ক্যামেরা ইন্সটল করা হয়েছে? তাতে রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, আজকেই সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। মোট ৩১টি সিসিটিভি ইন্সটল করা হয়েছে। সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আজ সকালে তাদের আসার কথা ছিল কিন্তু তারা আসেননি। কেস ডাইরি নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলে। আদালত প্রশ্ন করে বগটুই গ্রামের মানুষ কি এতোটাই শিক্ষিত মে তাদের জবানবন্দি ইংরেজিতে লেখা হয়েছে। তারা যে ভাষায় জবানবন্দি দিয়েছেন সেই ভাষার বদলে সেটা কেনো ইংরেজি লেখা হলো?

আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল বলেন, ডিজির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ডিজিকে কী করতে হবে। কী সেকশন দিতে হবে সেটাও মুখ্যমন্ত্রী বলে দিচ্ছেন। তাহলে কীভাবে তদন্ত হবে? মামলাকারীদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী আজকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন এতে প্রমাণ চাপা দেওয়া হবে। সাক্ষীরা মুখ নাও খুলতে পারেন।

রাজ্যের তরফে বলা হয় সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তাতে দুই বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয় রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং আইজিকে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনভাবেই সাক্ষীদের প্রভাবিত করা যাবে না।ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া যাবে না।

আবেদনকারীর পক্ষে এখনও সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন। আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, রাত সাড়ে আটটায় উপপ্রধান খুন হন। রাত নটা নাগাদ সমর্থকদের এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল। ৫০০ মিটারের মধ্যে রামপুরহাট থানা। তাদের ফোনে জানানো সত্ত্বেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। এখনো পর্যন্ত সাক্ষীদের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। আইনজীবীর দাবি শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এলাকা দখল নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ হচ্ছে অবৈধ বালি খাদান, পাথর খাদানে তোলাবাজি।
বিচারপতি প্রশ্ন করেন এখনো কতজন ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে আইনজীবীর শামিম আহমেদ জানান এখনো চারজন ভর্তি হাসপাতালে।

আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন পুলিশ মন্ত্রীর অধীনে থাকা কোন সংস্থাকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করা উচিত নয়। নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনার তদন্ত করুক। আইনজীবী নীলাঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য ছোট আঙারিয়া ঘটনার সময় আদালত বলেছিল সি পি আই এম পার্টির সঙ্গে জড়িত লোকেরা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং শাসকদলের তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন ভাদু শেখের মৃত্যুর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই ঘটনার পেছনে তৃণমূলের জেলা সভাপতি জড়িত থাকার বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সিবিআই তাকে বারবার ডেকে পাঠিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন এই ঘটনার জন্য ব্লক প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করা হোক। তাহলে শাসক দলের লোকজন জড়িত আছে এটা প্রমাণিত মুখ্যমন্ত্রী কথা থেকেই স্পষ্ট। এর পেছনে কারা জড়িত মুখ্যমন্ত্রী তা জানেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *