আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৮ মে:
বিকশিত রামপুরহাট গড়তে বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার, রামপুরহাটের পাঁচবারের বিধায়ক তৃণমূলের আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেলেন বর্তমান বিধায়ক বিজেপির ধ্রুব সাহা। প্রাক্তন বিধায়ককে প্রণাম করে শহরের উন্নয়নে তাঁর পরামর্শ চাইলেন বর্তমান বিধায়ক। রাজনীতিতে এমন সৌজন্য বিরল বলে মনে করছেন বিদ্বজনেরা। নব নির্বাচিত বিধায়কের এই সৌজন্যে খুশি প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও রামপুরহাট বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রথমে কংগ্রেস থেকে পরাজিত হয়ে তৃণমূলে ঢুকে ২০০১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের মহম্মদ হান্নাকে পরাজিত করে বিধানসভায় প্রবেশ করেন রামপুরহাট কলেজের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ষীয়ান এই তৃণমূল বিধায়ক প্রথম দিকে মন্ত্রিত্ব পাননি জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে। পরে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে যথাক্রমে কৃষি, প্রাথমিক শিক্ষা, আয়ুস এবং তথ্য পরিসংখ্যান দফতরের মন্ত্রীর পদ সামলান। ২০২১ সালে জয়ের পর ১৩তম ডেপুটি স্পিকার হয়ে পাঁচটি বছর পার করেন। এবার বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে তিনি পরাজিত হন। কাকতালীয়ভাবে ধ্রুব সাহা তাঁর ছাত্র। ফলে ছাত্রের কাছে পরাজিত হয়েও ধ্রুব সাহাকে আশীর্বাদ করে আরও উন্নতি করার পরামর্শ দেন।
প্রাক্তন এবং বর্তমান বিধায়ক বেশ কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। পরে আশিসবাবু বলেন, “ধ্রুব সাহা আমার ছাত্র প্রতিম। উনি এখন বিধায়ক হয়েছেন। আমার কাছে যখন সাহায্য চাইবে আমি তখনই পরামর্শ দেব। সহযোগিতার হাত সর্বদা থাকবে”। ধ্রুব সাহার এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে তিনি গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র বলে মনে করেন।

ধ্রুব সাহা বলেন, “প্রাক্তন বিধায়ক আমার শিক্ষক। উনি ২৫ বছর বিধায়ক ছিলেন। তাই তাঁর কাছে আশীর্বাদ নিতে এলাম। তাছাড়া একসময় বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী জোট ছিল। সেই জোটে উনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তাছাড়া দেশের যস্বশী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং প্রয়াস।” তাই উনার প্রয়াস আমাদের চলার পথে কাম্য। কারণ উনি ২৫ বছর ধরে মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। আগামী দিনে বিকশিত রামপুরহাট গড়ার জন্য স্যারের কাছে আশীর্বাদ এবং পরামর্শ নিতে এসেছি। স্যার অনেক পরামর্শ দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নামে রোগীদের নার্সিং হোমে ঢুকিয়ে মোটা টাকা কমিশন আদায় করছে। এই দুর্নীতির অবসানের পরামর্শ দিয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক পরামর্শ দিয়েছে। আগামী দিনে উন্নয়নের জন্য স্যারের পরামর্শ নিয়ে চলবো।”
এদিন ধ্রুব সাহার সঙ্গে ছিলেন মহিলা মোর্চার জেলা সভা নেত্রী রশ্মি দে, দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ সুরজিৎ সরকার।

