BJP, Nalhati, আদিবাসী এলাকায় পাথর খাদান করতে গিয়ে তিন লক্ষ টাকা জরিমা দিতে হল বিজেপি নেতাকে

আমাদের ভারত, বীরভূম, ২২ সেপ্টেম্বর: আদিবাসী এবং দেবত্ত সম্পত্তি দখল করে খাদান করতে গিয়ে আদিবাসীদের হাতে বন্দি হতে হলো বিজেপির ওবিসি মোর্চার জেলা সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহুকে। তিন লক্ষ টাকা খেসারত গুনে আদিবাসীদের হাতে মুচলেখা দিয়ে ছাড়া পেলেন ওই নেতা। সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। এনিয়ে সমাজ মাধ্যমে সরব হয়েছেন নলহাটির বিজেপি প্রার্থী অনিল সিং। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের রামপুরহাট থানার বড়পাহাড়ি গ্রামে।

অভিযোগ, স্থানীয় বুদ্ধি নাথ মুর্মু ওরফে বুধী ৪৬ একর জমি লিজ নেয় বিষ্ণু কুমার মণ্ডল ও হরেকৃষ্ণ মণ্ডলের থেকে। সেই লিজ নেওয়া জমিতে গত রবিবার পাথর উত্তোলন করার কাজ করতে যান বিজেপির ওবিসি মোর্চার জেলা সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহু। তাতে বাধা দেন এলাকার আদিবাসীদের একাংশ। এরপরেই গ্রামবাসীরা গোবিন্দ সাহুকে স্থানীয় ক্লাবে তুলে নিয়ে গিয়ে জেরা শুরু করে। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়।

গ্রামবাসীদের জেরায় গোবিন্দ জানান, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডলের কথায় তিনি পাথর তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। তাছাড়া তিন এলাকার কিছুই চেনেন না। গ্রামবাসীদের ঘেরাওয়ে দীর্ঘক্ষণ বন্দি থাকার পর তিন লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান গোবিন্দ সাহু।

তিনি বলেন, “ওই জায়গা আমরা ৫০ বছরের লিজ নিয়েছিলাম আদিবাসীদের কাছ থেকে। কিন্তু ওখানে ব্যবসা শুরু করতে গেলে আদিবাসীদের ডেকে সভা করে কাজ শুরু করতে হয় জানতাম না। ফলে আমাকে ওরা আটকে রেখে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। পরে তাদের তিন লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। তবে আমরা বৈধভাবেই কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। আবারও যাব। শান্তনু মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলেই ওই এলাকায় গিয়েছিলাম”।

শান্তনু মণ্ডল বলেন, “এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে ওই জাগায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পাথর তুলে লুটেপুটে খেয়েছে। এখনও তারা একইভাবে খাবার চেষ্টা করছে। আমাদের লোক অন্যায়ভাবে কাজ শুরু করতে গেলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। তাই বলে তিন লক্ষ টাকা জরিমা করবে এটা ঠিক নয়।”

নলহাটির বিজেপি নেতা অনিল সিং বলেন, “দলের নেতাদের এমন কাজে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আদিবাসীদের জমি দখল করে পাথর খাদান করতে যাওয়া অন্যায় হয়েছে। আমি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সমস্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *