বহিষ্কৃত বাম সদস্যদের পদ্ম ফুলে সমর্থন, তৃণমূলকে সরিয়ে জয়পুরে ক্ষমতায় বিজেপি

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ সেপ্টেম্বর: পুরুলিয়া জেলার জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতি দখলে নিল বিজেপি-বাম জোট। শাসক তৃণমূলকে সরাতে আদর্শ থেকে সরে দুই বামফ্রন্টের সদস্য বিজেপির সঙ্গে হাত মেলান। আর এতেই তৃণমূল বেদখল হল। দুই বাম সদস্যদের মধ্যে এক জন সিপিএমের অন্যজন ফরওয়ার্ড ব্লকের। যদিও সিপিএম জেলা সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, “ওই নির্বাচিত সদস্যকে আমাদের দল থেকে এক বছর আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে।” একই ভাবে তাঁর দলের ওই সদস্যকে নিয়ে সাফাই দেন ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক মিহির মাঝি। তিনি বলেন, “যেখানে ওই সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে সেখানে আর কী বলব।”

পরাজয় নিশ্চিত জেনে আজকের আস্থা ভোটে অনুপস্থিত থাকলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ তৃণমূল সদস্যরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২১ আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েত সমিতিতে জয়ী হন তৃণমূল ৯, বিজেপি ৯, কংগ্রেস ১, ফরওয়ার্ড ব্লক ১ ও সিপিএমের ১ জন। বিজেপি বাদে বাকি সবাই মিলে বোর্ড গঠন করে। আবার কংগ্রেস সদস্য বিন্দু কর্মকার যোগ দেন তৃণমূলে। সভাপতি থাকেন বিন্দু কর্মকার। এদিকে কিছুদিন আগে মারা যান তৃণমূলের এক সদস্য। বামেদের দুই সদস্য তৃণমূল থেকে সমর্থন তুলে বিজেপির সাথে সভাপতির অনাস্থার ডাকে সামিল হন। এদিন ছিল সভাপতির আস্থা দেখানোর দিন। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির ৯ ও বামেদের ২ সদস্য। ছিলেন না সভাপতি সহ তৃণমূল সদস্যরা।

তৃণমূলের জয়পুর ব্লক সভাপতি শঙ্কর নারায়ণ সিং দেও বলেন, “এটা জলের মতো পরিস্কার যে বামেদের সমর্থন নিয়ে আমরা বোর্ড গঠন করেছিলাম। তারা সমর্থন তুলে নিয়েছে। তাই দলের সদস্যদের জেলা কমিটি নির্দেশ দিয়েছিল আস্থা ভোটে উপস্থিত না হওয়ার। তাই দলের কেউ উপস্থিত হয়নি।”

এদিকে বিজেপির জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তি বলেন, “প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্যের জয় হয়েছে।”

অন্যদিকে, আজ এই ব্লকের সিধি জামড়া পঞ্চায়েতে অনাস্থায় কার্যত জয়ী হয় বিজেপি। ১৪ আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতে প্রথমে তৃণমূলের ৭, বিজেপি ৬ এবং ১ জন নির্দল সদস্য থাকেন। নির্দল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। পরে নির্দল সদস্য মারা যান। সুযোগ বুঝে বিজেপি অনাস্থার ডাক দেয়। আজ তারই ফল স্বরূপ ক্ষমতায় এল বিজেপি। আজ সভায় দলের নির্দেশ অমান্য করে তিন জন তৃণমূলের সদস্য অনাস্থার বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি ভালো ভাবে নেবে না দল বলে জানান তৃণমূল ব্লক সভাপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *