জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১১ আগস্ট: জল্পনার অবসান। অবশেষে সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়েছে বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত মন্ডল। রাখির বদলে জুটেছে হাতকড়া। সাতসকালে খবর চাউর হতে খুশির হাওয়া গেরুয়া শিবিরে। অনুব্রত মন্ডলের ফতোয়ার গুড় বাতাসা, নকুলদানা দিয়ে তার গ্রেফতারির খুশির উন্মাদনা প্রকাশ করল গেরুয়া শিবির।
গতকাল রাত থেকেই আকাশে নিম্নচাপের চোখ রাঙানি। আর ওই চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে রাখি বন্ধনের আবহে কার্যত ডবল উৎসবে মাতোয়ারা বিজেপি। এদিন বেলা গড়াতে পানাগড় বাজারে ঢাকের চড়াম চড়ম সুরে আনন্দোচ্ছ্বাসের সূচনা করে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। আর তারপরই থালা ভরা গুড় বাতাসা আর নকুলদানা নিয়ে পানাগড় বাজারে বেরিয়ে পড়ে। পথচলতি মানুষ থেকে দোকানে, বাস যাত্রীদের মধ্যে মুঠো ভর্তি বাতাসা, নকুলদানা বিলি করতে থাকে বিজেপি কর্মীরা।

পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপির সহ সভাপতি রমন শর্মা জানান, “উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে বলতেন। নির্বাচনের সময় চড়াম চড়াম ঢাকের সুর আর গুড় বাতাসা, নকুলদানা খাওয়ানোর নিদান দিতেন। যার অন্তরালে চলেছে বিরোধীদের ওপর তৃণমূলের ক্রমাগত আক্রমন। ঘরছাড়া করা হয়েছিল বিজেপির বহু কর্মীকে। খুন হয়েছে শতাধিক বিজেপি কর্মী। গ্রামকে গ্রাম আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাপটে রাজ্যের আইন ধরাশায়ী হয়ে পড়েছিল। পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকায় সেদিন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সাহস পায়নি। আর গণতন্ত্রকে যেভাবে গলাটিপে রাখা হয়েছিল, আর রাজ্যের মানুষ তার জেরে দমবন্ধ হয়ে নিজেদের বঞ্চনা আর অপমানের ক্ষোভ মনের মধ্যে জিইয়ে রেখেছিল। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আদালত ভারতীয় সংবিধানের বিচারে আজ গরুপাচার চক্রে, দুর্নীতিতে গ্রেফতার হয়েছে বীরভূমের কেষ্ট মন্ডল। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের খুশিতে উৎসব করছে আক্রান্তরা। তাই তারই ফতোয়ার গুড় বাতাসা নকুলদানা খাইয়ে খুশির উৎসবে মাতোয়ারা রাজ্যবাসী।”

