পশ্চিম মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্ত গন্ডগোল, বিজেপি প্রার্থী সহ আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ এপ্রিল: দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর, খড়গপুর এবং সবং বিধানসভা কেন্দ্র। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মাঝখানেই দ্বিতীয় দফার ভোট পর্বে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। কেশপুর বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় এদিন বিজেপি প্রার্থী প্রীতিশ রঞ্জন কোনারের গাড়ি ভাঙ্গচুর সহ আক্রান্ত হয়েছেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা। কেশপুরের বিজেপি প্রার্থী এবং সংবাদমাধ্যমের গাড়ির উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কেশপুরের গুণহারা এলাকায়। বিজেপি প্রার্থী এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা আক্রান্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। গ্রেফতার করা হয় ১৭ জনকে। ঘটনার পর ঘন্টা দুয়েক বিজেপি প্রার্থীর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এদিন সকালে কেশপুর তৃণমূল কার্যালয়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ জনের একটি দুষ্কৃতী দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অফিসে থাকা তৃণমূল কর্মী উত্তম দলুইকে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর এলাকায় আরও বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এই ঘটনায় সাত জনকে গ্রেপ্তার করে। এদিন এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙ্গচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই সময় সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা এবং বিজেপি প্রার্থী সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার উপর লোহার রড লাঠি এবং বাঁশ নিয়ে হামলা চালায়। সংবাদমাধ্যমের গাড়ির চালক কোনও রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে গিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আত্মগোপন করে। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা গ্রামজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালায়। বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে এবং সংবাদমাধ্যমের গাড়িতে রীতিমতো তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং বিধানসভা কেন্দ্র এদিন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানকার ইসলামপুর বুথে  পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের বচসা বেধে যায়। অন্যায় ভাবে বুথে ঢুকতে গেলে সেখানকার বিজেপির মন্ডল সভাপতিকে পুলিশ আটক করে। বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ঘোরার অভিযোগে তৃণমূল কর্মীরা ভারতী
ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। এরইমধ্যে ভারতী ঘোষ অভিযোগ করেন, তাঁকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি রিটার্নিং অফিসারকে অভিযোগ জানান এবং বিজেপি কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ তোলেন। এদিন সবং বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার বেশ কিছু জায়গায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইঞা অভিযোগ করেন, সকাল আটটা পর্যন্ত চার পাঁচটি ইভিএম মেশিন খারাপ ছিল। বিভিন্ন বুথে তৃণমূলের এজেন্টদের উপর হামলা চালিয়েছে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পরে পুলিশ অবশ্য ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে তিন জনকে আটক করে। এদিন খড়গপুর কেন্দ্র থেকেও বিজেপির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ওঠে। বিজেপি প্রার্থী হিরণ বেশকিছু বহিরাগতদের নিয়ে ঘোরাফেরা করছে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল। তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, ব্যারাকপুর থেকে অর্জুন সিংয়ের পাঠানো লোকজন ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এখানকার তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ করেন। বিজেপি প্রার্থী হিরন অভিযোগ করেন, গতকাল সন্ধ্যে থেকে লোডশেডিং করিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ভোট না দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তৃণমূল নেতা কর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *