সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৬ মে: দু এক বছর নয় টানা তিরিশ বছর গ্রামছাড়া থাকার পর রাজ্যে পালা বদল হতেই গ্রামে ফিরলেন বিজেপি কর্মী বিমল। বাম আমলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় পৈত্রিক ভিটেমাটি ফেলে গ্রামছাড়া হতে হয়েছিল বিমল’কে। বহু চেষ্ঠা করেও গ্রামে ফেরা হয়নি তার। অবশেষে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের কুশমুড়ি গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরলেন বিমল, স্থানীয় বিধায়ক নির্মল ধাড়ার উদ্যোগে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, ছোট থেকেই গ্রামের বাসিন্দা বিমল চন্দ্র বোড়া বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। গত ১৯৯৩ সালের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৎকালীন শাসক দল বামেদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি প্রার্থী হন। সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি। কিন্তু ভোট মিটতেই তার ওপর নেমে আসে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। অকথ্য অত্যাচারের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বিমলবাবু। দীর্ঘদিন ভবঘুরের মত আত্মীয়দের বাড়িতে বাড়িতে ঘোরেন আর বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন। গ্রামে ফেরার উপায় না দেখে অবশেষে আরামবাগে স্থায়ী ভাবে থাকতে শুরু করেন। সেখানেই বিয়ে করে ঘর সংসার পাতেন। গত ২০১১ সালে বামেদের হারিয়ে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় এলেও শাসক দলের সন্ত্রাসের ভয়ে আর গ্রামে ফেরা হয়নি তার।
রাজ্যে ফের সরকার বদল হয়। ইন্দাস বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক নির্মল কুমার ধাড়া উদ্যোগী হয়ে বিমল বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপির উদ্যোগে আরামবাগ থেকে তাকে সসম্মানে কুশমুড়ি গ্রামের নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ইন্দাসে বিধায়ক নির্মল ধারা নিজে তাকে বরণ করে গ্রামে স্বাগত জানান। দীর্ঘ ৩০ বছর পর নিজের জন্মভিটায় ফিরে আসতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বিমল বাবু। অপরদিকে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা বিমলবাবুকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠে।

