আমাদের ভারত, কলকাতা, ৭ মার্চ: গত ৪ঠা মার্চ ছিল ভারতীয় কিষাণ সংঘের প্রতিষ্ঠা দিবস। সর্বভারতীয় এই সংগঠন ১৯৭৯ সালে, রাজস্থানের কোটা শহরে এই দিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দত্তপন্থ বাপুরাও ঠেংরির হাত ধরে। সেই দিনকে স্মরণ করেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে এই সংগঠনের ৫০ লক্ষের বেশি সদস্য আছে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল মিলিয়ে।
সামনে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন আসছে। সেই নির্বাচন উপলক্ষে কৃষকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে ও দাবিদাওয়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ‘কৃষক সম্মেলন’ করছে ভারতীয় কিষাণ সংঘ। ইতিমধ্যে নদিয়া জেলার রানাঘাট ১ ব্লকের তারাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুরেশ নগর গ্রামে ও তেহট্ট-১ ব্লকের কুষ্টিয়া হাসপাতাল মাঠে, উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁ ব্লকের দিঘারী গ্রামে ও গাইঘাটা ব্লকের আমকোলা গ্রামে, পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার ব্লকের বলগোনা সরস্বতী শিশু মন্দিরে ও মঙ্গলকোট ব্লকের কৈচর গ্রামে, পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের চাতুরিভারা গ্রাম ইত্যাদি জায়গায় কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই কৃষক সম্মেলন সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের প্রচার প্রমুখ ও ‘ভারতীয় কিষাণ বার্তা’ পত্রিকা সম্পাদক মিলন খামারিয়া বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল খেয়েই আমরা বেঁচে আছি। কিন্তু সেই কৃষকরাই আর্থিক সাফল্য ও সামাজিক সম্মান পাচ্ছেন না। চাষাবাদ করার প্রতি নতুন প্রজন্মের অনীহা দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে কারা চাষাবাদ করবে। কী খেয়ে বাঁচব আমরা? তাই আমরা কৃষকদের অধিকার ও সমাজের মানুষদের সচেতন করছি সম্মেলন করার মাধ্যমে। কৃষক বাঁচলে আমরা বাঁচব – এটা সম্পর্কে সবাই যেন সচেতন হন। তাদের অধিকার পাইয়ে দিতে সমাজের সবাই এগিয়ে আসুক। নতুন সরকার তারাই গড়ুক যারা প্রকৃত কৃষক দরদী।
রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস সরকার বলেন, আমরা পশ্চিমবঙ্গের ৩৪৬টা কৃষি ব্লকেই কৃষক সম্মেলন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই কার্যক্রম চলছে। এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের দাবিদাওয়া আদায় করে সম্পন্ন কৃষক সমাজ গঠনের মধ্যে দিয়ে বৈভবশালী রাষ্ট্র গঠন করা। পর্যাবরণ বজায় রেখে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ফিরিয়ে আনা এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কৃষক হীতে কাজ করবে এমন রাষ্ট্রবাদী সরকার গঠন করা।
রাজ্য সভাপতি অনিমেষ পাহাড়ি বলেন, দেশে কৃষকদের নেতৃত্বে অনেক বিপ্লব হয়েছে, যেমন- হোয়াইট রেভ্যুলেশন (দুগ্ধ বিপ্লব-১৯৭০), রাউন্ড রেভ্যুলেশন (আলু বা গোলাকার সব্জি বিপ্লব), রেড রেভ্যুলেশন (টমেটো বিপ্লব -১৯৮০), সিলভার রেভ্যুলেশন (ডিম বিপ্লব, ১৯৬৯-১৯৭৮), ইয়োলো রেভ্যুলেশন (তেল বিপ্লব, ১৯৮৬-৮৭), গ্রিন রেভ্যুলেশন (সবুজ বিপ্লব -১৯৬০), গোল্ডেন রেভ্যুলেশন (ফল, ফুল ও মধু বিপ্লব, ১৯৯১-২০০৩), ব্লু রেভ্যুলেশন (মৎস্য বিপ্লব, ১৯৮৫-১৯৯০)। এই প্রতিটি রেভ্যুলেশন বা বিপ্লব করেছে কৃষকরা এবং দেশবাসীকে সাফল্যও এনে দিয়েছে তারাই। কিন্তু কৃষকরা আজও তাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সাফল্য পাননি। সেইজন্য ভারতীয় কিষাণ সংঘ কৃষকদের পাশে থেকে তাদের দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কৃষকরা তাদেরই ভোট দেবেন যারা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করবেন- এই বার্তা আমরা ভারতীয় কিষাণ সংঘের মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে দিতে চাই।

