আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৪ মে: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে হতাশ বাঁকুড়া। রাজ্য মেধা তালিকায় প্রথম দশে বাঁকুড়া জেলার মান রেখেছে মাত্র একজন কৃতি। বাঁকুড়া বঙ্গ বিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রত্যুষা নন্দী। মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাঁকুড়ার পড়ুয়ারা গত কয়েক দশক ধরেই উল্লেখযোগ্য ফলাফল করে আসছে। সদ্য প্রকাশিত মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে জেলার ১৪জন পড়ুয়া মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল বের হতেই হতাশ হতে হয়। সকাল থেকেই বাঁকুড়াবাসীর নজর ছিল ফলাফলের দিকে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষার পর হতাশ হতে হয়। এক মাত্র প্রতুষ্যা মান রেখেছে জেলার।

প্রতুষ্যার বাবা আনন্দমোহন নন্দী পেশায় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি শিক্ষকতা করতে প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে বিষ্ণুপুর যান।তিনি মেয়ের পড়াশোনার জন্য বাঁকুড়া শহরের প্রতাপবাগান এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। প্রত্যুষার মা মানসী নন্দী গৃহবধূ। উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্য মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে প্রত্যুষা নন্দী। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭। সে পড়াশোনা একেবারে নিজস্ব পথেই করত বলে জানিয়েছে প্রত্যুষা। সে চিরাচরিত বা প্রথাগত পদ্ধতিতে পড়াশোনা করার পরিবর্তে অনলাইন মাধ্যম ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে পড়াশোনা করাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেছে। এতে তার এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন সে। নিয়মিত অনুশীলন, সময় মেনে পড়াশোনা এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েছে সে। এসব মিলিয়ে তার এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করেছে কৃতি ছাত্রী প্রত্যুষা নন্দী। সে ভবিষ্যতে একজন সফল ও রোগীদরদী ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।

প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিকে বাঁকুড়া জেলাজুড়ে একাধিক কৃতি ছাত্র-ছাত্রীর নাম উঠে এলেও, এ বছর সেই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র একে। ফলে বাঁকুড়ায় উচ্চমাধ্যমিক স্তরের গৌরবের পতাকা এখন কার্যত একাই বহন করছেন প্রত্যুষা নন্দী, এমনটাই মনে করছেন জেলার শিক্ষা মহল। উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম দশে মাত্র ১জনকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো জেলার শিক্ষানুরাগীদের। প্রতুষ্যা পড়াশোনায় বরাবরই ভালো। তাই মাধ্যমিক পরীক্ষার পর গ্রাম থেকে এসে বাঁকুড়া শহরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে মেয়েকে বঙ্গবিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। প্রত্যুষা নন্দী ডাক্তার হতে চায়। এবারের নিট পরীক্ষা ভালো হয়েছিল কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা বাতিল হয়েছে। এতে হতাশ হলেও প্রত্যুষার দৃঢ় বিশ্বাস সে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে সফল হবেই। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তার প্রতিটি বিষয়ে গৃহশিক্ষক থাকলেও বাবা- মা’কে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিতে চান। কারণ মা মানসী নন্দীও শিক্ষক ছিলেন। স্বামী- স্ত্রী দু’জনেই চাকরি করলে মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যেতো। তাই মানসী দেবী শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে সংসার আর মেয়ের পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন। মেয়ের এই সাফল্য তাঁর ত্যাগের সার্থকতার পরিচয় বহন করছে।

