পিন্টু কুন্ডু, আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ১১ জানুয়ারি: একাধিক বিধি নিষেধ আরোপ করে সুকান্তর বাইক র্যালিতে নিষেধাজ্ঞা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের। বুধবার জেলা পুলিশের তরফে পাঠানো একটি চিঠি পেতেই সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ ও শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ান বিজেপি নেতারা। একইসাথে অনুমতি ছাড়াই বাইক র্যালি করার হুঁশিয়ারি জেলা বিজেপি সভাপতির।
প্রসঙ্গত, স্বামী বিবেকানন্দের ১৬১তম জন্মদিন পালন নিয়ে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে এক বিরাট বাইক র্যালি করবার উদ্যোগ নেয় বিজেপির যুব মোর্চা। গঙ্গারামপুর থেকে চালু হওয়া যে বাইক র্যালিটি তপন হয়ে বালুরঘাটে প্রবেশের কথা রয়েছে। আর সেই বাইক র্যালির পুরোভাগ থেকে নেতৃত্ব দেবার কথা রয়েছে এলাকার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের। যে খবর পেতেই যুব মোর্চার সেই বাইক র্যালিটি বাতিল করে দেয় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। যেখানেই মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে জেলা পুলিশ। যার মধ্যে ট্রাফিক জ্যাম, স্পর্শকাতর এরিয়া, জেড ক্যাটাগরিতে এলাকা অবরুদ্ধ সহ একাধিক কারণ দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাইক র্যালিতে মোটর বাইকের সংখ্যা ও সাধারনের উপস্থিতির সংখ্যা কেন উল্লেখ করা হয়নি সে বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের তরফে। আর যে কারণেই ওই বাইক র্যালির কোনো অনুমতি দেয়নি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ।
যদিও এই ঘটনা নিয়ে পুলিশকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, পুলিশ তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছে বলেই এধরণের ঘটনা। তৃণমূল অবশ্য এ নিয়ে পুলিশের কোনো অন্যায় খুঁজে পায়নি। শুধু তাই নয়, সব ব্যাপারে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতারা।
বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, তৃণমূল জানে আগামী দিনে তারা আর ক্ষমতায় থাকবে না। তাই তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পুলিশকে দিয়ে এ ধরনের কাজ করাচ্ছে। তৃণমূল ও পুলিশ যৌথভাবে এই বাইক র্যালিটিকে আটকানোর চেষ্টা করলেও আগামীকাল তারা গঙ্গারামপুর থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত যুব মোর্চার নেতৃত্বে বাইক র্যালি করবেন।
তৃণমূল নেতা সুভাষ চাকি বলেন, স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গবাসীর আবেগ থাকাটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কোথাও যেন কোনো বিশৃঙ্খল ঘটনা না হয় তা রক্ষা করার দায়িত্ব প্রশাসনের। তাই সেখানে পুলিশ প্রশাসন অনুমতি দেবে কিনা তা নিয়ে প্রশাসনই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এ ব্যাপারে তাদের কিছু বলার নেই।

